X
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪
৩০ চৈত্র ১৪৩০
৫৪ ও ১৬৭ ধারার রায় ২৪ মে

'সভ্যতার সেন্স বদলেছে, আইনে বদল দরকার'

উদিসা ইসলাম
১৮ মে ২০১৬, ০১:০৪আপডেট : ১৮ মে ২০১৬, ০৬:০১

আইন-আদালত বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারা নিয়ে নতুন করে ভাবনার কিছু নেই বললেও প্রচলিত আইনের পক্ষে শক্ত কোনও যুক্তি হাজির করেনি রাষ্ট্রপক্ষ। উপস্থিত রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী বলছেন, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ রেগুলেশন বিবেচনায় রেখে কিছু পরিবর্তন আনতে চাইলে আনা যেতে পারে। যদিও শুনানি শেষে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, হেফাজতে মৃত্যু যদি ঘটেই তা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনও রয়েছে।
একযুগ পর বিষয়টি নিয়ে শুনানি শুরু হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের পর মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত শেষে কমিটি ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে কয়েকটি সুপারিশ করে। সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট এ বিষয়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন।
হাইকোর্টের সেই নির্দেশনারও বাস্তবায়ন হয়নি। ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও ডিনেটশনের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা সেইফ গার্ড। হাইকোর্টের নির্দেশনা যদি বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে হেফাজতে নাগরিকের মৃত্যুর খবর আসত  না।

শুনানিকালে প্রধান বিচারপতিও এক যুগ পর নির্দেশনার বাস্তবায়ন না হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট রায়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও একটি নির্দেশনাও (সরকার) প্রতিপালন করেননি।’ প্রধান বিচারপতি ফৌজদারি কার্যবিধিকে কলোনিয়াল আইন উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭০ সালের পর মালয়েশিয়া,পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছে। কিন্তু আমরা এখনও এটি করতে পারছি না।

শুনানিতে আপিলের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  বলেন, ‘আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের নির্দেশনাসমূহ যথাযথ নয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ হেফাজতে যদি কেউ মারা যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দেশে আইন রয়েছে।’ এ সময় প্রধান বিচারপতি একজনের নিখোঁজ হওয়ার পরও খোঁজ না পাওয়ার উদাহরণ দেন। শুনানি শেষে আদালত ২৪ মে রায়ের জন্য ধার্য করেন।  

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনির্ভাসিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের পর ওই বছরের ২৩ জুলাই মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে তার মৃত্যু হয়।ওই ঘটনার পর বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত শেষে কমিটি ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে কয়েকটি সুপারিশ করে।

সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। তার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট এ বিষয়ে কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়।

রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রচলিত বিধি সংশোধন করার পাশাপাশি ওই ধারা সংশোধনের আগে কয়েক দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয় সরকারকে। রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে ২০০৪ সালে তা মঞ্জুর হয়। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা সে সময় স্থগিত করা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ মার্চ আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

শুনানিকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন অতি জরুরি। শুনানিতে সরকার পক্ষ থেকেও তীব্র বিরোধীতা আসেনি। তারাও মনে করেন বাংলাদেশ পুলিশ রেগুলেশন বিবেচনায় রেখে পরিবর্তন হতে পারে। আসলে সাদা পোশাকে গ্রেফতার, হেফাজতের অপব্যাবহার বন্ধে আর কোনও রাস্তা নেই। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণের সময় আদালত এ নির্দেশনা স্থগিত করেননি। অথচ রাষ্ট্র তারপরও এটা বাস্তবায়ন করেনি। আমাদের মনে রাখতে হবে সময় পাল্টেছে,সভ্য হওয়ার সেন্স পাল্টেছে। ফলে উচ্চ আদালত যুগপোযোগী করে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।

/এমএসএম/আপ-এনএস/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ভ্রমণে কানাডার সতর্কতা
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ভ্রমণে কানাডার সতর্কতা
যশোরে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
যশোরে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা
ইউরোপে বৈধ পথে শ্রমিক পাঠানো সহজ হবে
ইউরোপে বৈধ পথে শ্রমিক পাঠানো সহজ হবে
লুটনকে উড়িয়ে দিলো ম্যানসিটি
লুটনকে উড়িয়ে দিলো ম্যানসিটি
সর্বাধিক পঠিত
ঈদের তৃতীয় দিন: দেখতে পারেন যেসব নাটক
ঈদের তৃতীয় দিন: দেখতে পারেন যেসব নাটক
বাংলাদেশে বিমান মেরামতের কারখানা করতে চায় কানাডিয়ান কোম্পানি
বাংলাদেশে বিমান মেরামতের কারখানা করতে চায় কানাডিয়ান কোম্পানি
ভরা মৌসুমে অস্থির কেন পেঁয়াজের বাজার?
ভরা মৌসুমে অস্থির কেন পেঁয়াজের বাজার?
হুন্ডি প্রতিরোধে কী করছে সরকার?
হুন্ডি প্রতিরোধে কী করছে সরকার?
ইসরায়েল থেকে ফ্লাইট আসার ব্যাখ্যা দিলো বেবিচক
ইসরায়েল থেকে ফ্লাইট আসার ব্যাখ্যা দিলো বেবিচক