বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির মৃত্যুতে মামলা তদন্তে কোনও ব্যাঘাত ঘটে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্মকমিশনার আব্দুল বাতেন। তবে এসব আসামিদের দিয়ে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়াতে পারলে মামলার জন্য ভালো হতো বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অভিযানে গিয়ে পর্যাপ্ত সতর্ক না থাকলে কী ঘটনা ঘটে তা আপনাদের জানা আছে। আমাদের একজন পুলিশ সদস্য এর আগে অভিযানে গিয়ে মারা গেছেন। আমাদের ওপর কেউ হামলা করে যদি খুন করে যায়, তা আইন পারমিট করে না। জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ তার সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করে। তখন প্রাণহানি ঘটে। বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে আগে থাকতেই কিছু বলা যায় না। অভিযানে গিয়ে পুলিশ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।’
আব্দুল বাতেন বলেন, ‘পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। তখন এসব প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। এসব আসামি বেঁচে থাকলে তদন্তে সুবিধা হতো। তাদের দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ানো যেত। তবে আমার মনে হয় না, এতে মামলার তদন্তে বড় কোনও সমস্যা হবে। কারণ অন্যান্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত এগিয়ে চলে।’
এ নিয়ে গত ১৩ দিনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৭ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জনকে জঙ্গি বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাকিরা ডাকাত সদস্য ও বিভিন্ন হত্যা এবং অস্ত্র মামলার আসামি।
মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষক হত্যাচেষ্টার সময় হাতেনাতে জনতার হাতে গ্রেপ্তার ফাইজুল্লাহ ওরফে ফাহিম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ১৮ জুন পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
১৫ জুন যশোর, পাবনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলাদা বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হন। এর মধ্যে যশোরের মণিরামপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হন। একই দিন পাবনার পদ্মারচরে রুবেল হোসেন নামে এক যুবক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নিহত রুবেল পুলিশ সদস্য সুজাউল ইসলাম হত্যায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। একই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জীবন মিয়া নামে এক ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
১৪ জুন জয়পুরহাটে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন সোহেল ও মনিরুজ্জামান মনির নামে ২ যুবক। এদের মধ্যে সোহেল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একে আজাদ হত্যা মামলার আসামি।
১১ জুন নড়াইলের লোহাগড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাকিব শেখ নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশের দাবি, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রাকিব।
৯ জুন রাজধানী ঢাকা ও গাইবান্ধায় পৃথক বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ৩ জন। এদিন রাজধানীর রামপুরায় র্যারেব সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন জামাল পারভেজ (৪২) নামে এক ব্যক্তি। প্রায় একই সময়ে টঙ্গী এলাকায় নজরুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তি র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। র্যাবের দাবি, নিহত উভয় ব্যক্তিই ‘ছিনতাইকারী’। একইদিন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গাইবান্ধায় এক ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তি জেএমবি সদস্য।
গত ৮ জুন বগুড়া ও যশোরে পৃথক দুই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ২ জন নিহত হন। বগুড়ায় নিহত ব্যক্তির নাম কাউছার আলী (২৫)। পুলিশের দাবি, কাউছার জেএমবির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি বগুড়ার আলোচিত শিয়া মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িত। অপরদিকে যশোরে নিহত ব্যক্তি ডাকাত দলের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তারেক হোসেন মিলু ওরফে ইলিয়াস ওরফে ওসমান (৩৫) ও সুলতান মাহমুদ ওরফে রানা ওরফে কামাল (৪২) নামে দুই ব্যক্তি।
এছাড়া রাজশাহীতে জামাল উদ্দিন নামে একজন কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিহতের নাম রুবেল মিয়া (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, পল্লবীতে নিহত দু’জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা, দিনাজপুরের ইস্কন মন্দিরে হামলা এবং বগুড়া শিয়া মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা দুজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ- জেএমবির মধ্যম সারির নেতা ছিলেন। আর রাজশাহীতে নিহত জামাল বাগমারায় সৈয়দপুর গ্রামে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত রুবেল মিয়া আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার বলে পুলিশ জানিয়েছে।
- অভিজিৎসহ সাত জনকে হত্যার নেপথ্যে ছিল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শরীফ
- প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ আড়াল করতে চাইছেন: বিএনপি
- উত্তরার খাল থেকে ফের গোলাবারুদ উদ্ধার
/এআরআর/এজে








