আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা জবি কর্তৃপক্ষের (ভিডিও)

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ আগস্ট ২০১৬, ১৯:০৩আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৬, ২০:৪৯

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কর্তৃপক্ষ হামলা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ, সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. নূরে আলম আবদুল্লাহ, প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার সাহা এবং প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা কাজী মনির অংশ নেন। তারা এক শিক্ষার্থীর শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন এবং শিক্ষার্থীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার সকাল ৯টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেন। এসময় প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মিছিল নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ঘুরে প্রধান ফটকের সামনে যান।

এ সময় হঠাৎ করে প্রক্টর নুর মোহাম্মদসহ অন্যান্য আরও চার কর্মকর্তা কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন। শিক্ষার্থীদের মাইক বহনকারী রিকশাচালককে মারধর করে মাউথ স্পিকার ভেঙে ফেলেন প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা কাজী মনির।

হামলার এক পর্যায়ে এক শিক্ষার্থীর কলার ধরে টানাটানি করেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীর জামা ছিঁড়ে যায়। তখন এক শিক্ষার্থীকে ‘শিবির কর্মী’ বলে অভিযোগ দিয়ে পুলিশে দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় ক্যাম্পাসে মোতায়েন থাকা কোতোয়ালি থানার অর্ধশতাধিক পুলিশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বাধা দেন।

এদিকে,হামলার প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

হামলার শিকার শিক্ষার্থী রুহুল মোমেন বলেন, প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ তাকে মারধর করে ‘শিবিরের কর্মী’ বলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিহত করতে চাইছে। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কয়েকদিন আগে থেকেই আন্দোলন থেকে সরিয়ে পুলিশে দেওয়ারও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

অভিযোগ বিষয়ে প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের প্রধান ফটক খুলে দিতে বলি। কিন্তু তারা খোলেনি। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে এবং নিরাপত্তার খাতিরে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে, এ হামলার পর জরুরি একাডেমিক সভা আহ্বান করেন জবি ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। সভায় সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে প্রদানের জন্য সরকারের কাছে এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হয়।

 

/আরএআর/এবি/টিএন/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের