আইনজীবী বাদী হয়ে মামলা করার কারণে বিবাদীপক্ষ মামলা পরিচালনার জন্য কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে পারছেন না ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া স্বামী ও শ্বশুরের জামিনের আবেদন করতে। ঢাকা থেকে আইনজীবী নিয়েও স্থানীয় আইনজীবীদের বাধার মুখে মামলাটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এখন মামলার বিবাদীপক্ষ ন্যায় বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ জেলায়।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর পৌরসভার রাবারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তার দুই নাবালক সন্তান ও মামলা পরিচালনার জন্য ঢাকা থেকে যাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে হালিমা বেগম বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম আমার আত্মীয়। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি স্থানীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আমার স্বামী, বাবাসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বাজিতপুরের সহকারী পুলিশ কমিশনার ঘটনাটি তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আদালতে তিনি এই মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আমিরুল ইসলাম আদালতে আপত্তি (না-রাজি) দাখিল করেন। এরপর আদালত দায়ের করা মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট গ্রহণ না করে বিচারের জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ৬ আগস্ট রাতে বাজিতপুর পুলিশ হালিমা বেগমের স্বামী রশিদ মিয়া ও তার শ্বশুরকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।
হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, মামলাটি পরিচালনা ও জামিন গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করার জন্য কোনও আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারছেন না তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে তারা জানান, কোনও আইনজীবী বাদী হয়ে মামলা করলে বিবাদী পক্ষে কোনও আইনজীবী দাঁড়াবেন না, এ মর্মে কিশোরগঞ্জ জেলা বারের সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। সে কারণে তিনি কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে, ওই মামলায় গ্রেফতারদের জামিনের জন্য তিনি কোনও আবেদন করতে পারছেন না।
হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, মামলাটি পরিচালনার জন্য গত ১৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেনকে কিশোরগঞ্জের আদালতে নিয়ে গেলে আদালতে তাকে কোনও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ওই সময় আইনজীবীরা আদালতে হৈচৈ করে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেন। ফলে, আদালতে কোনও জামিন আবেদন করা যায়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, মামলা হলে আইনজীবী নিয়োগ করা একটি মৌলিক অধিকার। বিবাদী পক্ষ কোনও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন না বলে কিশোরগঞ্জ বার যে মৌখিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আইনসম্মত হয়নি। এ ঘটনায় আমরা উচ্চতর আদালতে যাবো। কিন্তু এই কাজের জন্য মামলার যেসব কাগজপত্র তোলা দরকার, সেগুলো স্থানীয় আইনজীবীরা তুলতে দিচ্ছেন না।
কামাল হোসেন বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কোনও আইনজীবী নিয়োগ করা না গেলে বাইরে থেকে আইনজীবী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত একজন আইনজীবী লাগবে। ঘটনার দিন স্থানীয় একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও মামলাটি যখন আদালতে উপস্থাপিত হয়,তাকে তখন আদালতে উপস্থিত হতে দেননি স্থানীয় আইনজীবীরা। তিনি উপস্থিত না থাকায় আদালতে জামিনের বিষয়ে কোনও আবেদন করা সম্ভব হয়নি।
হালিমা বেগমের আরও অভিযোগ, বাড়ির জমিজমা নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। তার স্বামীর ভিটেমাটি দখল করার জন্য আইনজীবী ও বাদী আমিরুল ইসলাম একটি গোপন দলিল করেছেন। বাস্তবে ওই জমি বিক্রি করা হয়নি। এখন তিনি (আমিরুল ইসলাম) ওই জমি দখল করার পাঁয়তারা করছেন।
/এবি/







