পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) রুহুল কবির খানের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী শাহ্রিমা ফেরদৌস তমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত শাহ্রিমা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শাহ্রিমা কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
শাহ্রিমা ফেরদৌস তমার বাবা গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার শহীদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০০৮ সালে আমার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় রুহুলের। বিয়ের পরপরই ২৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পায় সে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সে শাহ্রিমা সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছে। কথায় কথায় তুই-তুকারি, মা-বাবা তুলে গালি দেওয়া ছাড়াও তুচ্ছ কারণেই গায়ে হাত দিত। ২০১২ সালে তার এই আচরণ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। আমরা পুলিশ হেড কোয়ার্টারে অভিযোগ দিয়েছিলাম। তখনকার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় সে আর খারাপ ব্যবহার করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়।’
শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ওই প্রতিশ্রুতির পর শাহ্রিমা আবার তার সংসারে ফিরে যায়। ২০১৩ সালে তাদের একটি সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকেই আবার খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করে রুহুল। আমাদের সঙ্গে সে কোনও যোগাযোগ করে না। আমাদের বাসায় আসেও না, খায়ও না। এভাবে চলছিল।’ বাচ্চাটার কথা চিন্তা করে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান শহীদুল্লাহ।
এর মধ্যে রুহুলের নির্যাতন আর অসদাচরণের মাত্রা বাড়তে থাকে জানিয়ে শাহ্রিমার বাবা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে শাহ্রিমার ওপর চড়াও হয় রুহুল। রড দিয়ে বেদম মারধর করে। মাথায় আঘাত করে, গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে মেরে ফেলতে চায়। কোনোক্রমে বাচ্চাকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে শাহ্রিমা। আমরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরদিন শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) কাফরুল থানায় জিডি করা হয়েছে।’
আহত শাহ্রিমা ফেরদৌস তমার বাবা জানান, আইজিপি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগের একটি আবেদন তৈরি করা হয়েছে। দুই দিন বন্ধ থাকায় সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) অভিযোগপত্রটি পৌঁছানো হবে।
এ ঘটনায় দায়ের করা জিডির বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করে কাফরুল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই ) আব্দুল রহিম বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যা নিয়ে ওই জিডিটি করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানার জন্য রুহুল কবীর খানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি।
/আরজে/টিআর/







