অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত নীতিমালার প্রজ্ঞাপন আগামী ৩ ডিসেম্বরের আগেই জারি করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারকদের আচরণ বিধির খসড়া অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা আসবে।’
এর আগে, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নীতিমালা সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের ব্যাপারে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। রাজধানীর হেয়ার রোডের জাজেস কমপ্লেক্সে এই বৈঠক হয়।
বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, এই শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের শেষ তারিখে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যে কথোপকথন হয় সেখানে বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এবং আমি একটা বৈঠক করবো। বৈঠক করবো এই শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু মতপার্থক্য ছিলে এই শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে। আমি আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের যেসব মতভেদ ছিল সেগুলো নিরসন করেছি, মতপার্থক্য দূর করেছি এবং শৃঙ্খলাবিধির ব্যাপারে ঐক্যমতে এসেছি। এখন শৃঙ্খলাবিধি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবো। তিনি (রাষ্ট্রপতি) হুকুম দেবেন গেজেট প্রকাশ করার এবং তার হুকুম পেয়ে আমরা গেজেট প্রকাশ করবো।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি আশা করছি, রাষ্ট্রপতি যদি ৩ ডিসেম্বর তারিখের আগেই অনুমোদন দেন (আচরণবিধির খসড়ায়) তাহলে গেজেট প্রকাশ (৩ ডিসেম্বরের আগেই) করতে পারবো।’
তাহলে ৩ ডিসেম্বরের আগেই গেজেট প্রকাশ হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করছি ৩ ডিসেম্বরের আগেই রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমেই গেজেট প্রকাশ করতে পারবো।’
সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যে মতপার্থক্য ছিল তার সুরাহা হলো কিনা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা আমি না বলি। কারণ, যতক্ষণ না এটা রাষ্ট্রপতির কাছে যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এটা প্রকাশ করে দেওয়া রাষ্ট্রপতির প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানো হবে বলে মনে করছি।’
অধস্তন আদালতের শৃঙ্খলাবিধির প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল, আজ তার ইতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘বৈঠকে পাঁচজন বিচারপতিই (আপিল বিভাগের) ছিলেন। তাদের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ আলাপ-আলোচনা করেই সবার মতামত নিয়েই ঐকমত্যে পৌঁছেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের (বিচারপতিদের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের) মতপার্থক্য ছিল মাত্র অল্প কয়েকটা বিষয় নিয়ে। আমরা যখন বসেছি, যেটা আমাদের কাছে যুক্তিসঙ্গত লেগেছে সেই জিনিসটা আমরা সব পক্ষ মেনে নিয়েছি এবং সেই কারণেই কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি এটি নিরসন হয়েছে।’
ওই বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী ছাড়া আর কে কে উপস্থিত ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিলেন।’
আরও পড়ুন:
আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বসতে জাজেস কমপ্লেক্সে আইনমন্ত্রী








