জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র মো. কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ছয় জনের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। তবে এই দুই আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে এ মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া মতিঝিল থানার সাবেক ওসি রফিকুল ইসলাম কারাবন্দি থাকাবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- হাবিবুর রহমান তাজ, জাফর আহমেদ, মনির হাওলাদার, ঠোঁট উঁচা বাবু, আসিফুল হক জনি ও শরিফ উদ্দিন। এদের মধ্যে হাবিবুর রহমান তাজ ও ঠোঁট উঁচা বাবু ছাড়া বাকি চার আসামি এখনও পলাতক।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নিহত মোমিনের বড় ভাই সামছুল ইসলাম সুমন।
পরে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সামছুল ইসলাম সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে আমি ও আমার পরিবার সন্তুষ্ট। আমরা চাই সর্ব্বোচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এ মামলায় বিচারিক আদালতে ২০১১ সালে রায় হওয়ার পরও কোনও আসামিকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। আমি, আমার পরিবার থানায় বারবার গিয়ে আসামিদের ধরতে ওয়ারেন্ট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের কথা শোনে না, ফোনও রিসিভ করে না। তাই আমি চাই, পুলিশ যত দ্রুত সম্ভব পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করুক।’
এর আগে ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় কলেজ ছাত্র মোমিনকে মতিঝিল থানার সাবেক ওসি মো. রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা হত্যা করে। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওই ওসিসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে এ মামলায় ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। এর বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন দিলে ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়।
২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই বছরের ১১ নভেম্বর এ অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। এরপর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। এসময় আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচার শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালত এ মামলায় রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। ওই আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর চলতি বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। এরপর বুধবার (৬ ডিসেম্বর) মামলার শুনানি শেষ হলে আজ বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।







