গাঁজা বিক্রি দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর খাতায় নাম লেখায় নজরুল ইসলাম ওরফে নজু সর্দার (৪২)। এরপর ধীরে ধীরে সে সব ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। গত ২০ বছর ধরেই সে এই ব্যবসা করেছে। মিরপুরের রূপনগর থানাধীন চলন্তিকা বস্তিতে মা-ভাই-বোন-স্ত্রী ও শাশুড়িসহ পরিবারের সবাইকে নিয়েই নজু মাদকের ব্যবসা করতো। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল সে।
রূপনগরের চলন্তিকা বস্তি ‘ট ব্লক’ এলাকায় রবিবার (২৭ মে) রাত ২টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নজু সর্দার নিহত হয়।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সোমবার এ কথা জানিয়েছেন।
রূপনগর থানার এসআই মিজান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দুকযুদ্ধের পর তাদের কাছে থাকা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের ছবি মিলিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন নিহত ব্যক্তি নজু সর্দার।
ডিবি জানিয়েছে, রূপনগরের ‘ট ব্লক’-্এর ওই আস্তানায় নজু অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয় নজরুল।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, এক থেকে দেড় যুগ আগেই নজুর নাম বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে। সর্বশেষ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভিন্ন থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা করেছে, তাতে ৯৮ নম্বরে ছিল তার নাম। তবে এত বছরেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার নামে মোট মামলা রয়েছে অন্তত ৩৪টি। এরমধ্যে তার নামে পল্লবী ও রূপনগর থানাতেই মাদকদ্রব্য আইনে ১৪টি মামলা রয়েছে।
সূত্র জানায়, নজুর বাড়ি মুন্সীগঞ্জের কেওরা এলাকায়। মাদক ব্যবসা করে সেখানেও বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছিল সে। নজুর দুই ভাই তোফা কাজী ওরফে তোফা সর্দার ও বাবুল কাজী ওরফে বাবুল সর্দারও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নজুর পাঁচ বোনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নজুর স্ত্রী হাজেরা বেগম, মা সুফিয়া বেগম, শাশুড়ি ফেলানী এবং পাঁচ বোনের মধ্যে দুই বোন শান্তি ও লীলা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নজুর নেতৃত্বে তারা সবাই চলন্তিকা বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল।
তিনি আরও বলেন, নজুকে ধরতে বিভিন্ন সময়ে চলন্তিকা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই তাকে ধরা যায়নি। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে তাকে ধরতে র্যাব একবার চলন্তিকা বস্তিতে অভিযান চালিয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চেও নজুকে ধরতে চলন্তিকায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু অভিযানের খবর আগেই টের পেয়ে বারবার পালিয়ে যেতো সে। বস্তিতে তার লোকজন সবসময় পাহারা দিয়ে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাকে অনুসরণ করছে কিনা তা নজরদারি করতো।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, নজুকে ধরার জন্য তারা সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছিলেন। রবিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নজুর অবস্থান জানার পরপরই তারা তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেন। নজুকে জীবিত ধরতে পারলে তার সঙ্গে আরও যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল তাদের সবাইকে ধরা যেত বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:
রাজধানীসহ ৯ জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১২ ‘মাদক ব্যবসায়ী’
পিরোজপুরে বন্দুকযুদ্ধে ২ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত








