কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের ২০ আইনজীবী।
মঙ্গলবার (৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও আইনুন নাহার সিদ্দিকা এ তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে ব্যারিস্টার সারা হোসেন,অ্যাডভোকেট আরিফুল হক, অ্যাডভোকেট জিয়া ও আমিসহ সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী শাহবাগ থানায় গিয়েছিলাম।কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কারা কারা থানায় আটক আছে সে বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। থানার কর্মকর্তাদের থেকে তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি।
তিনি বলেন, ‘ফারাহ নামের একটি মেয়েকে গতকাল (সোমাবর) পুলিশ আটক করেছিল। আমরা থানায় যাওয়ার আগেই পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শাহবাগ থানার কোর্ট সেকশন (জিআর) থেকে কিছু তথ্য নিলাম। সেই তথ্য অনুসারে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৫টি মামলা করা হয়েছে। এই ৫টি মামলার মধ্যে শুধু রাশেদের মামলাটি আমাদের কাছে আছে। বাকি ৪টি মামলার কোথায় কী অবস্থা সে বিষয়ে এখনও কাগজপত্র হাতে পাইনি।’
সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘২ জুলাই থেকেই আমরা রাশেদকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছি। ওইদিন আমরা (সুপ্রিম কোর্টের ২০ আইনজীবী) তার পক্ষে শুনানি করেছি। আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে। রিমান্ড শেষে আমরা তার জামিন চেয়ে আবেদন জানাবো।’
প্রসঙ্গত,গত ১ জুলাই সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিল। রাশেদ নিজে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তাকে তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। এরূপ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করায় জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় তাদেরকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ২০ জন আইনজীবী।








