রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাড়ির মালিককে না পেয়ে ভাড়াটিয়াদের ওপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। নবীনগর হাউজিংয়ের ১১ নম্বর রোডের হাজী সোলায়মানের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ভাড়াটিয়াদের মারধর, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভাড়াটিয়া লিটন ও বেলালের। শনিবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৮ জুলাই) মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন লিটন ও বেলাল। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন- শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে স্থানীয় মহিউদ্দীন, নসু ও আলমগীরের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জন বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াদের মারধর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একইসঙ্গে স্বর্ণালঙ্কার, দামি জিনিসপত্র ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- বাড়ির মালিক হাজী সোলায়মানের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিনসহ অন্যদের ঝামেলা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই শনিবার গভীর রাতে তারা হামলা চালায়। আমাদের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। তারা মামলা নেয়নি। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দীন বলেন, ‘হামলার ঘটনা শুনেছি। কিন্তু কেউ কোনও অভিযোগ করতে আসেনি। আমি বলেছিলাম, কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে তাহলে যেন তারা অভিযোগ জানায়। কিন্তু তাদের কোনও অভিযোগ আমি পাইনি।’
বাড়ির মালিক হাজী সোলায়মান বলেন, ‘আমার জায়গা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ঝামেলা চলছে। আমাকে মোবাইলে হুমকিও দিছিল। পরে আমি কোর্টে একটি মামলা করেছিলাম। সেই মামলায় আসামিরা গত ৪ জুলাই হাজিরা দিয়ে এসেছে। এরপরই শনিবার তারা আমাকে মারার ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে বাড়িতে হামলা চালায়। আমি খবর পেয়ে ৯৯৯ এ ফোন করে সহযোগিতা চাই। রাতেই মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ আসে। তবে পুলিশ আসার আগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।’
বাড়ির মালিক সোলায়মান বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত ঝামেলার ঘটনা ওসি সাহেব আগে থেকেই জানতো। এটার নালিশ কয়েক মাস আগেই ওসি সাহেবের টেবিলে দেওয়া আছে। উনি বিষয়টা জানেন। জায়গা মাপার পর কাগজপত্রও উনাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, ওসি সাহেব আমাকে আর কিছু জানাননি।’







