রাজধানীর গুলিস্তানে এক পুলিশ সদস্যের গুলিতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ দাবি করেছে, অসাবধানতা এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে এই ঘটনা ঘটে। দুই পায়ে গুলি লাগা এসআই ওবায়দুরকে প্রথমে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ ওবায়দুর রহমান আহাদ পুলিশ বক্সের ইনচার্জ। তিনি পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) মো.সাইফুল ইসলামের পিস্তলের গুলিতে আহত হয়েছেন। সাইফুল আহাদ বক্সের দোতালায় বসেন। এসআই ওবায়দুর ২০১৬ সাল থেকে আহাদ পুলিশ বক্সের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারিতে।
এই বক্সে ফয়সাল আহমেদ নামে ১৪ বছরের এক কিশোর এসআই ওবায়দুরের পরিচারিকা হিসেবে কাজ করে। ওই কিশোর বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, ‘ঘটনার সময় সে দোতলায় ছিল। বক্সের নিচতলায় মতিঝিল জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল) মো. ইলিয়াছ হোসেনে কক্ষে বসা ছিলেন এসআই ওবায়দুর রহমান, পিআই সাইফুল ইসলাম ও এসি ইলিয়াছ হোসেন। হট্টগোল শুনে সে নিচে নামে। এরপর দেখি ওবায়দুর স্যারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সে এসি স্যারের রুমের ভেতরে রক্ত পরা দেখে তা ধুয়ে ফেলে।
এসি ইলিয়াছ হোসেনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি পিআই সাইফুল ইসলাম এবং বক্সের ইনচার্জ এসআই ওবায়দুর রহমানকে নিয়ে আমার কক্ষেই মিটিং করছিলাম। মিটিং শেষে তারা দুজন উঠে যাচ্ছিলেন, এসময় পিআই’র পিস্তল থেকে অসাবধানবসত ওবায়দুর গুলিবিদ্ধ হন।'
দুই পায়ে গুলি লাগার বিষয় তিনি বলেন, ‘এক পায়ে গুলি লাগার পর ভেদ করে অন্য পায়ে লাগে। তবে আমি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছি, তার পায়ের ভেতরে গুলি নেই।’
ডিএমপির মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার সিবলী নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা একটা দুর্ঘটনা। আমাদের এক পুলিশ সদস্য বসা থেকে ওঠার সময় অপর পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এসআই ওবায়দুরের ২ পায়ে হাঁটু বরাবর গুলি লেগেছে। জরুরি বিভাগে তাকে চিকিৎসা শেষে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার সময় পুলিশ বক্সের গেটে দায়িত্বে ছিলেন কনস্টেবল ইসমাল হোসেন। তিনি বেলা দুইটা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চলে যান। ঘটনা এসির রুমের ভেতরে ঘটায় তিনিও কিছু দেখেননি বলে জানান।
বর্তমানে বক্সের ভেতরে কোনও পুলিশ কর্মকর্তা নেই। মতিঝিল বিভাগে তাদের ডাকা হয়েছে। বক্সের ফটকে কনস্টেবল মহিউদ্দিন দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঘটনার পর আসছেন। তিনিও কিছু জানেন না বলে কোনও কথা বলতে চাননি।






