সিটি নির্বাচনে ক্যাসিনো ও মাদক কারবারে জড়িতরাও অংশ নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘ক্যাসিনো ব্যবসায়ীরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নিজেকে জাহির করে টিকে থাকতে চান। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রবিবার (১২ জানুয়ারি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ‘ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও টিভিসি’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করছেন মমিনুল হক সাইদ। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ‘ক্যাসিনো পরিচালনা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের পরও কেন সাইদকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না?’—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অন্যায় করে টাকা উপর্জন করেন, তারা অন্যায়কারী। তারা অন্যায় কাজে অবৈধ টাকা ব্যবহার করেন। সমাজপতি হোক, বড় রাজনীতিবিদ হোক, আমরা কাউকে ছাড় দেবো না।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনও ইয়াবা তৈরি হয় না
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনও ইয়াবা তৈরি হয় না। রোহিঙ্গারা ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত। আমরা যখনই খবর পাচ্ছি, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। অতটুকো (টেকনাফ-উখিয়া) জায়গায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। সেজন্য সীমান্ত ব্যবস্থা কঠিন কাজ। আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। কেউ আমাদের নজরদারির বাইরে নয়।’
প্রকাশ্যে কেউ ধূমপান করছে না
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিছুদিন আগে ধূমপানের বিরুদ্ধে কথা বলছিলাম। জনগণকে সম্পৃক্ত করেছিলাম। জনগণকে জানিয়েছিলাম ধূমপানের ক্ষতিকর দিক। আজকে মানুষ প্রকাশ্যে ধূমপান করছে না।’
মাদক প্রতিরোধে সীমান্ত সড়ক হচ্ছে
মিয়ানমার দিয়ে মাদক প্রবেশ করে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব পথে দেশে মাদক প্রবেশ করে, আমরা সেসব জায়গা চিহ্নিত করেছি। আমাদের বিজিবি ও নিরাপত্তাকর্মীরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তের যেসব এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করছে, আমরা সেসব এলাকা চিহ্নিত করেছি। কিছু দুর্গম এলাকা রয়েছে। সেসব এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। আমরা সেই এলাকায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করবো। এজন্য আমাদের কাজ চলছে। এছাড়া বিজিবিকে হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছে। তারা ওইসব এলাকায় হেলিকপ্টার দিয়ে টহল দিচ্ছে।’
মাদকবিরোধী অভিযান থেমে যায়নি
মাদকবিরোধী অভিযান থেমে যায়নি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মাদকের ব্যবসা করতো, যারা ইনভেস্ট করতো, আমরা তাদের গ্রেফতার করেছি। অনেকে কারাগারে রয়েছে। যারা বাইরে আছে, তাদেরও শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।’
মাদকের চাহিদা কমাতে বেগ পেতে হচ্ছে
স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের চাহিদা কমাতে আমরা কাজ করছি। চাহিদা কমাতে পারলে সরবরাহও কমবে। যারা মাদকাসক্ত, তাদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোরিয়া সরকার আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধেও সহযোগিতা করছে। আমরা ২০৩০ ও ২০৪১ সালে নতুন প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পারবো।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তরুণ কান্তি শিকদার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন ও কোরিয়ার মাদকদ্রব্য বিভাগের পরিচালক উন যাই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







