অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী তার পরিবারের সব সদস্যকে নিজের অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের করা আবেদনের শুনানিতে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন।
আদালতে দুদকের আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে রাশেদুল হক চিশতীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির।
শুনানিকালে আদালত বলেন, মামলার নথি অনুসারে, তার (মাহবুবুল হক চিশতী) পরিবারের সবাই অপরাধ সম্পর্কিত কার্যক্রমে জড়িত। মাহবুবুল হক চিশতী তিনি মূল ডিলার এবং তিনি তার পরিবারের সব সদস্যকে তার অপরাধ সম্পর্কিত কার্যক্রমে ব্যবহার করেছেন।
এক পর্যায়ে রাশেদুলের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, ৫৫ লাখ টাকার কথা বলছেন— এটি অংশবিশেষ। পুরো চিত্র হচ্ছে পুরো পরিবার টোটালিটি অপরাধমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত।
পরে আদালত দুদকের আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১ জুন দিন নির্ধারণ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর ফারমার্স ব্যাংকের ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকটির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী), মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী রুজী চিশতী, ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ফারমার্স ব্যাংকের চাকরিচ্যুত এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও চাকরিচ্যুত ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল এ মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ব্যাংকিং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাহবুবুল হক চিশতী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে এবং নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ২৫টি হিসাব খোলেন।
পরে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের সহায়তায় গ্রাহকদের হিসাব থেকে পাঠানো ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা ওই ২৫টি হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এসব টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নিজেদের নামে কেনা শেয়ারের দাম পরিশোধ করেছেন।এজাহারে আরও বলা হয়, লেনদেনের একটি বড় অংশই হয়েছে গুলশান শাখা থেকে।
২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বখশীগঞ্জ জুট স্পিনার্সের চলতি হিসাবে গুলশান প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা জমা হয়। এর পুরোটাই নগদে তুলে নেওয়া হয়। বাকি ২১ কোটি টাকা বিভিন্ন হিসাব থেকে লেনদেন হয়। মামলার পরপরই চিশতীসহ চারজনকে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। অন্য তিনজন হলেন- চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান।
এদিকে ২০২০ সালের ১৯ মে বিচারিক আদালত থেকে জামিন পান রাশেদ চিশতী। এর বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ে রাশেদ চিশতীর জামিন বহাল রাখা হয়।
পরে হাইকোর্টের দেওয়া রায় চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। সেই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে দুদককে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুদক লিভ টু আপিল করে। পাশাপাশি রাশেদুল হক চিশতীও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
আরও পড়ুন-









