রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পাঁচ বছরের শিশু জিসানুল ইসলাম আকাইদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার রিকশাচালক সেলিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিকশাচালক সেলিমকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় সেলিম স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে রজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সোমবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে খিলগাঁও থানার গোড়ান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারের সময় অপহরণ কাজে ব্যবহৃত রিকশা, অপহরণের সময় অপহরণকারীর পরিহিত টি-শার্ট ও লুঙ্গি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্ষুর জব্দ করা হয়।
গত ৬ আগস্ট বেলা ৩টায় শিশু জিসানুল ইসলাম আকাইদ ও তার সমবয়সী ৫-৬ জন শিশু একসঙ্গে খেলা করতে খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হয়। খেলা শেষে অন্য শিশুরা বাসায় ফিরে গেলেও আকাইদ বাসায় ফেরে না। তার পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজি করে। আশপাশের লোকজনের কাছে তারা জানতে পারে, অজ্ঞাত রিকশাচালক তাকে নিয়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারে গত ৭ আগস্ট ভিকটিমের পিতা খিলগাঁও থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শুরু করে খিলগাঁও থানা পুলিশ।
খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুকুল আলম জানায়, গত ৯ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় খিলগাঁও থানার মধ্য নন্দীপাড়া নূর মসজিদ গলির একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে পঁচাগলা অবস্থায় একটি শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের পিতা-মাতা মৃতদেহের পরনের প্যান্টের রঙ দেখে শিশুটিকে শনাক্ত করেন।’
তিনি বলেন, ‘এ মামলা তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গোড়ান এলাকা হতে রিকশাচালক সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে সে জানায়, যে বাড়িতে শিশুটির লাশ পাওয়া গেছে সেটির মালিক রিকশাচালক সেলিমের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়। বাড়ির মালিকের স্ত্রী একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। আত্মীয়তার সূত্রে সেলিম ব্যাংক কর্মকর্তাকে তার রিকশায় বাসা ও ব্যাংকে আনা নেওয়া করতো। কিডনি রোগে আক্রান্ত স্ত্রী নুপুর আক্তারের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন ছিল সেলিমের। সে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে টাকা চায়। ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে টাকা না দেওয়ায় অবৈধ জিনিস তার বাড়িতে রেখে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত সেলিম।’
ওসি বলেন, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত ৪ আগস্ট দোকান থেকে সে একটি ক্ষুর কিনে তার কাছে রাখে। ঘটনার দিন ভিকটিমকে তার রিকশায় করে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির হাত রশি দিয়ে বেঁধে ধারালো ক্ষুর দিয়ে গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’
হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গত ৪ আগস্ট ব্যাংক কর্মকর্তার স্বামী ৭ আগস্ট তাদের বাসা পরিষ্কার করা হবে বলে সেলিমকে বলেন। তখনই হত্যার পরিকল্পনা করে সেলিম। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ আগস্টের আগেই লাশ রেখে আসে ওই বাসার ছাদে। সেলিম ভাবে, বাড়ি পরিষ্কার করার সময় লাশ দেখতে পেলে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে লাশটি সরানোর চিন্তা করবে বাড়ির মালিক। বাড়ির মালিক তাকে দিয়ে লাশটি সরানোর উদ্যোগ নিলে সে এ কাজের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করবে। এ পরিকল্পনা মতো সে শিশুটিকে হত্যা করে। কিন্তু বাড়ির মালিক তাকে বাড়ি পরিষ্কার করার জন্য না ডাকায় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।’







