ভারতের রাসায়নিক নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কা

আমানুর রহমান রনি
৩০ অক্টোবর ২০২১, ১১:০১আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১১:০১

ভারতের বাজারে বিভিন্ন রাসায়নিক সহজলভ্য হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এসব রাসায়নিক দিয়ে মাদককারবারিরা ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক তৈরি করে বাজারজাত করছে বলে জানা গেছে। রাসায়নিক দিয়ে তৈরি এ মাদককে বলে ‘সিনথেটিক ড্রাগ’। যার প্রতিরোধে সহযোগিতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানিয়েছে, বিশ্বে কেমিক্যাল উৎপাদন ও বাজারজাতে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। দেশটির আসাম, চেন্নাই ও মহারাষ্ট্রে রাসায়নিক উৎপাদন হয় বেশি। ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত প্রায় সকল রাসায়নিকই সেখানে পাওয়া যায়। সেখানকার বাজার থেকে সেগুলো সহজে সংগ্রহও করা যায়।

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এমন কেমিক্যালও ভারতে সহজলভ্য। বিষয়টি ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোকে (এনসিবি) লিখিতভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ভারতকে জানায়, ভারতে উৎপাদিত কেমিক্যালের মাধ্যমে দেশটির ভেতর অপরাধীরা ৩৪টি এবং অন্যান্য দেশে অন্তত ২২টি হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছে। অপরাধীদের হাতে এসব রাসায়নিক চলে যাচ্ছে সহজে। তারা এগুলো দিয়ে মাদকের পাশাপাশি বিস্ফোরকও বানাচ্ছে।

অনুমতি ছাড়া এসব কেমিক্যাল সংগ্রহ করে বহনের অপরাধে ভারতেই তাদের নিজেদের নাগরিকের পাশাপাশি আফগান ও নাইজেরিয়ান নাগরিকও গ্রেফতার হয়েছিল। বাংলাদেশ সেই গ্রেফতারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ভারতকে বোঝাতে চেয়েছে, মাদক বানাতে অন্য দেশের নাগরিকরাও ভারত থেকে এসব রাসায়নিক সংগ্রহে তৎপর।

বাংলাদেশ আরও অভিযোগ করেছে, ভারতের বাজার থেকে সিউডোফেড্রিন, এফেড্রিন, অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইড বা ইথানয়িক অ্যানহাইড্রাইডের মতো কেমিক্যাল মাদককারবারিদের হাতে সহজে চলে যাচ্ছে। এসবের অপব্যবহার ঠেকাতে ভারতকে আরও সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত দুই বছরে ২৮৫ কেজি সিউডোফেড্রিন, ৬১১ কেজি এফেড্রিন এবং ২৫ মেট্রিক টন অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইড উদ্ধার করেছে। মহারাষ্ট্র, চেন্নাই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসব কেমিক্যাল উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে সিউডোফেড্রিন, এফেড্রিন, অ্যাসিটিক অ্যানহাইড্রাইড, বা ইথানিক অ্যানহাইড্রাইড কেমিক্যাল নিষিদ্ধ করেছে। এগুলোকে মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিউডোফেড্রিন ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হলেও বাংলাদেশে এটি নিষিদ্ধ। কারণ এর ভেতর ইয়াবা তৈরির উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া এফেড্রিন ব্যবহৃত হয় হেরোইন তৈরিতে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে সিনথেটিক মাদক প্রতিরোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে আট ধরনের রাসায়নিক শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে। সেগুলো আমদানিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। কিন্তু ভারতকে এসব কেমিক্যালের উৎপাদন ও বিপণনে আরও সজাগ থাকতে হবে।’

 

 

/এফএ/
সম্পর্কিত
মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান শুরু
এ যেন ‘গাঁজার সিলিন্ডার’
মাদকসহ গ্রেফতার বিএনপি নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার
সর্বশেষ খবর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি