সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার প্রতাপনগরে বিদ্যুতের অবৈধ লাইনে বিদ্যুতায়িত হয়ে হাত-পা হারানো শিশু রাকিবুজ্জামানের চিকিৎসার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন আদালত।
শিশুর চিকিৎসা খরচের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিলের পর বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
এর আগে আদালতের পূর্বের নির্দেশনা অনুসারে শিশু রাকিবুজ্জামানের চিকিৎসার জন্য ২ কোটি ৬৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৮২ টাকা প্রয়োজন বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিউটের পরিচালক ডা. মো. আবুল কালামের সই করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পরে শিশুর আইনজীবীরা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দায় রয়েছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের কাছে আরজি জানান। তখন আদালত দোষ-ত্রুটি না খুঁজে ক্ষতিপূরণ দিতে মানবিক হতে পরামর্শ দেন।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর শিশু রাকিবুজ্জামানকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে শিশুটির জন্য দেশে-বিদেশে কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, তা জানাতে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ৭ নভেম্বর শিশু রাকিবুজ্জামানের জন্য ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। শিশুর বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক ঢালীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ রিট দায়ের করেন।
রিটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়নের চেয়ারম্যান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, জোনাল ম্যানেজার, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, প্রকল্প পরিচালক, সাতক্ষীরার ডিসি ও প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শককে বিবাদী করা হয়।
জানা গেছে, গত ২১ মার্চ আব্দুর রাজ্জাক ঢালীর দ্বিতল বাসার ওপর দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্যাপ ও কভারহীন বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়। অথচ পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর ওই আবাসিক ভবনের ওপর দিয়ে টানা বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ না দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।








