X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:২৪

মামলার জট নিরসনে দেশের অধস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে বিদায়ী সংবর্ধনার বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাচ্ছেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। তবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হচ্ছে অবকাশ। এর ফলে অবকাশে বসবে না আপিল বিভাগ। তাই দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) শেষ বিচারিক কর্মদিবস পালন করলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস হলো জনগণের আস্থা। এটা হলো বিচারকদের সততা, সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার প্রতি গণমানুষের অবিচল বিশ্বাস। সাধারণ মানুষের এই আস্থা অর্জনের জন্য বিচারকদের একদিকে যেমন উঁচু নৈতিক মূল্যবোধ ও চরিত্রের অধিকারী হতে হবে, তেমনই অপরদিকে সদা বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল আইন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এটা অর্জন সম্ভব কেবলমাত্র নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়মতো এবং আইনানুগভাবে বিচারিক কাজ সম্পন্নকরণের মাধ্যমে।’

‘একজন আইনজীবীর জীবন কখনই মসৃণ নয়। বিভিন্ন চড়াই-উৎড়াই পেড়িয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে প্রয়োজন একাগ্র নিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, ধৈর্য্য, সততা, পরিশ্রম এবং নিরন্তর অধ্যয়ন। প্রতিটি মামলা পরিচালনায় তার শিক্ষা, মেধা এবং বিচক্ষণতার প্রয়োগ হতে হবে। জেনে-শুনে মামলার ঘটনার বিকৃত উপস্থাপনা করা একজন আইনজীবীর কখনই উচিত নয়। সঠিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে আদালতকে সহায়তা করা মূল উদ্দেশ্য। আইন পেশার সুমহান মর্যাদা রক্ষা করতে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে বার ও বেঞ্চকে সোচ্চার থাকতে হবে। আইনজীবী ও বিচারকরা হচ্ছে একটি পাখির দু’টি পাখার মতো। বাম হাত ও ডান হাতের মতো। তাদের পরস্পরের প্রতি আস্থার সম্পর্ক বিচার ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান মামলার পরিসংখ্যান থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, বিচারের অভিগম্যতা অনেক বেড়েছে। একথা অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই যে, এখনও বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ জনগণের প্রবল আস্থা রয়েছে। বিচারের সমতার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে নিরন্তর কাজ করতে হবে। কারণ, জনগণের আস্থাই বিচারকদের সবচেয়ে বড় ভরসা।’

এ কথা অনস্বীকার্য যে, মামলার সংখ্যা বিবেচনায় আমাদের বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। মামলার জট নিরসনে দেশের অধস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। জেনে খুশি হয়েছি যে, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে। সংবিধানের আলোকে বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা বাস্তবতার নিরিখে অপরিহার্য। এতে বিচারপতি নিয়োগের কাজটি আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হবে এবং জনগণের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ভিত্তিহীন ধারণা দূরীভূত হবে।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার নিরন্তর কাজ করলেও অনেক জেলায় এখনও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি বিল্ডিং নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়নি। ফলে একই এজলাসে একাধিক বিচারককে কাজ করতে হয়। এতে সময়ের অপচয় হয়। সঙ্গত কারণে বিচারকদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা বাঞ্ছনীয়।’

‘ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ফিজিক্যাল কোর্টের মতো তেমন অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন নাই। এক্ষেত্রে ফিজিক্যাল এবং ভার্চুয়াল কোর্ট যুগোপৎভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করলে বিচার নিষ্পত্তি আরও দ্রুততর হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

‘প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ উদ্যোগ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার ফসল হচ্ছে আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ তথা আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন- ২০২০, যা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’

‘আজকে আমি আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। আপনাদের এই হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার জন্য আমি সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আইনজীবী এবং বিচারক হিসেবে আমি যদি কোনও কারণে আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। কিছুক্ষণের মধ্যে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপনাদের সামনের এ আসন থেকে আমার প্রস্থান হবে, আগামী দুই সপ্তাহ পর আমার বিচারক জীবনের ইতি ঘটবে এবং জীবনের শেষ অধ্যায় শুরু হবে। আমার অবসর জীবন যেন শান্তিময় হয়, এজন্য আপনাদের দোয়া কামনা করছি।’

‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের সহকর্মী বিচারপতিদের  অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি। তাই এই বিদায় বেলায় তাদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইনজীবীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য।’

‘এ কথা অনস্বীকার্য যে, বিপুল সংখ্যক মামলার জট আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মামলার জট হ্রাস ও মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে বিচারকদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’ তাই বিচারপ্রার্থীদের প্রতি গভীর মমত্ববোধসহ বিচারকার্য পরিচালনার নিমিত্তে সকল স্তরের বিচারকদের অনুরোধ করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

/বিআই/এপিএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
প্রচারণার শুরুতেই ইসিরা যাচ্ছেন নির্বাচনি এলাকায়
প্রচারণার শুরুতেই ইসিরা যাচ্ছেন নির্বাচনি এলাকায়
টেক্সাসের স্কুলে হামলা: ‘ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পুলিশ’
টেক্সাসের স্কুলে হামলা: ‘ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পুলিশ’
বাটলারের ব্যাটে স্বপ্নভঙ্গ কোহলিদের
বাটলারের ব্যাটে স্বপ্নভঙ্গ কোহলিদের
ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-রাজশাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ
ইঞ্জিনসহ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-রাজশাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত