হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে নুরচান বেগম হত্যাকাণ্ডের ২২ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আদম খান ওরফে রফিককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ২২ বছর ধরে আদম খান তার সকল কাগজপত্রে নিজের নাম-ঠিকানা বদলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ বছর ধরে ভিন্ন নাম-পরিচয়ে এনআইডি কার্ড বানিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্তেই দিন কাটিয়েছে সে।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
১৯৯৯ সালের ৩১ মে আর্থিক লেনদেনের জের ধরে নুরচান বেগমকে (৪০) ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে আদম খান। ওই ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় নুরচান বেগমের ছেলে শফিক একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৭ জুলাই আদালত আদম খানকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এরপর থেকেই আদম খান পলাতক ছিল।
কমান্ডার মঈন বলেন, র্যাব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদম খানকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র্যাব। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে আদম খানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৯ এর যৌথ দল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আদম খান জানায়, হত্যাকাণ্ডের এক বছর আগে নুরচান বেগমের ছেলে শফিকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নেয় সে। চার-পাঁচ মাস পর শফিকের বাবা অর্থাৎ নুরচান বেগমের স্বামী আব্দুর রহমান মারা যান। এরপর নুরচান বেগমের পরিবার আর্থিক অনটনে পড়ে। ১৯৯৯ সালের ৩১ মে পাওনা টাকা চাইলে আদম খান টাকা না দেওয়ার টালবাহানা করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে।
নুরচান তখন প্রতিবেশী আছমত উল্লাহর কাছে তার তিন বছরের শিশুকে নিয়ে ঘটনার বিচার চাইতে যান। আদম খান আছমত উল্লাহর ঘরে এসে নুরচানের সঙ্গে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে মারা যান নুরচান বেগম।
গ্রেফতার আদম খান আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাম থেকে পালিয়ে সিলেটে সপ্তাহখানেক ছিল। পরে ঢাকার আশুলিয়ায় আসে।
২০১২ সালের মার্চে আদম খান মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজের নাম রফিকুল ইসলাম, বাবার নাম নুর ইসলাম এবং বাইপাইল, আশুলিয়ার ঠিকানায় একটি ভুয়া জন্মসনদ বানায়। ওই ভুয়া সনদ দেখিয়ে সে এনআইডি’র জন্য আবেদন করে।
চেহারা বদলানোর জন্য সে ওই সময় ছদ্মবেশ নেয় এবং রফিক নামে আশপাশের এলাকায় নিজের পরিচিতি বাড়ায়।
পরে ভুয়া নাম ঠিকানায় সে স্মার্ট এনআইডি কার্ডও তৈরি করে। এরপর ছদ্মবেশে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করে আদম খান।
এখন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র্যাব।








