বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এ আবেদন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখা থেকে তখনই এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ চাওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির তথ্য প্রকাশ্যে আসে। একই সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশের আবেদন করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খানসহ সাবেক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বিরুদ্ধেও রেড নোটিশ চাওয়ার উদ্যোগ নেয়।
বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এনসিবি অন্তত ২৮ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করলেও ইন্টারপোল মাত্র চার জনের বিরুদ্ধে তা জারি করে। এর মধ্যে একজন বেনজীর আহমেদ। বিদেশে পলাতক ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে পৃথক তিনটি ধাপে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনাসহ যে ১২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা আবেদনে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে করা আবেদনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-উপাত্ত যুক্ত করা হয়েছে।
সংস্থাটির সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ রাজনৈতিক, সামরিক, ধর্মীয় বা বর্ণগত চরিত্রের কোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করেছে। এর মূল কারণ হলো, ইন্টারপোল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল মামলাগুলোতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করে, যার ফলে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
/জেইউ/এএম/








