দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ে বিশাল পার্থক্য। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ২ আর আফ্রিকান প্রতিপক্ষ, যাদের এবারই বিশ্বকাপে অভিষেক কেপ ভার্দের ৬৭। আটলান্টায় টুর্নামেন্ট ওপেনারে স্প্যানিশদের বিপক্ষে তারা যা করেছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে স্পেনকে ০-০ গোলে রুখে দিয়েছে তারা। তাতে শুরুতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বিপরীতে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে একটি পয়েন্ট অর্জন কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর একটি হিসেবেই বিবেচিত হবে।
তিকিতাকার দেশ স্পেনকে এদিন চেনা ছন্দেই দেখা যায়নি। অথচ বিশ্বকাপে গ্রুপ এইচে তারা আজ মাঠে নেমেছিল স্পষ্ট ফেভারিট হয়ে। কিন্তু প্রথমার্ধে তাদের দারুণভাবে রুখে দিয়ে নিজেদের দৃঢ়তা দেখায় কেপ ভার্দে। তবে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন কেপ ভার্দের গোলকিপার। তার দৃঢ়তায় বার বার হতাশ হতে হয়েছে লা রোহাদের। সেভ করেছেন ৭টি!
প্রথমার্ধে অপ্রত্যাশিত এক চিত্রই দেখা গেছে। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে বল দখলে রাখলেও সেখান থেকে কার্যকর আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি। তার ওপর স্পেনের আক্রমণ গড়ার গতিও ছিল কম। ফলে কেপ ভার্দে রক্ষণে দ্রুত ফিরে গিয়ে আঁটসাঁট রক্ষণ সাজাতে পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে। এ কারণে বলের দখল স্পেনের কাছে থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। ফেরান তোরেস দুর্দান্ত এক সুযোগ থেকে শট নিয়েছিলেন, কিন্তু বল গিয়ে লাগে ক্রসবারে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল হেড করলেও সেখানে বাধা হন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। রুখে দেন শট।
৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা প্রথমার্ধে দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। তার কারণেই বিরতির আগে আরও দুটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে লা রোহারা। ফেরান তোরেস ও আইমেরিক লাপোর্তের প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়ে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি সমতায় রাখতে ভূমিকা ছিল ভোজিনহার।
বিরতির পর ৭১ মিনিটে মাঠে নামেন প্রাণ ভোমরা লামিনে ইয়ামাল। তার পর আক্রমণে গতি পায় স্পেন। নেমেই প্রভাব রাখার চেষ্টা করেন তরুণ তারকা। ৭৫ মিনিটে ডান প্রান্তে নিজের মার্কারকে কাটিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর বল বাড়িয়ে দেন মার্কোস ইয়োরেন্তেকে। ইয়োরেন্তে সেখান থেকে খুঁজে নেন বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোকে। তবে মেরিনোর নেওয়া শটটি সহজেই সামলে নেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। মোট শট নেয় ২৭টি, যেখানে কেপ ভার্দের শট ছিল মাত্র ছয়টি। তবে স্পেনের লক্ষ্যভেদী সাতটি প্রচেষ্টার একটিও জালে জড়াতে পারেনি তারা। তাতে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় অঘটনগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।








