সম্প্রতি জালনোট চক্রে জড়িত সন্দেহে এক বাংলাদেশি ও তার দুই সহযোগী ধরা পড়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে। তার নাম মহম্মদ আনারুল ইসলাম। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আট লাখ ভারতীয় রুপির জালনোট। গোয়েন্দা সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, বছর চল্লিশের আনারুলের বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার মনকষা গ্রামে। তার কাছে বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও তিন মাসের ভারতীয় মেডিক্যাল ভিসা ছিল। আনারুল ঢুকেছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে। তবে ধরা পড়ে যান মালদহ জেলার কালিয়াচকে। কালিয়াচককে গোটা ভারতে জালনোটের কারবারের প্রধান কেন্দ্র বলে ধরা হয়।
গোয়েন্দারা জানান, আনারুলকে জেরা করে কালিয়াচক থেকেই তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। তাদের একজনের নামও আনারুল ইসলাম। তার বাড়িও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলায়, তবে তিনি গোমস্তাপুর থানা এলাকার ঈশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা। আটক দ্বিতীয় জন এমদাদুল হকের বাড়ি গোমস্তাপুর এলাকারই রুকুনপুর গ্রামে। এ দুজনেরও বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে এবং সাত দিনের মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে মালদহের মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছিল।
আরও খবর পড়ুন-
রাজউক পরিচালককে গ্রেফতার করেছে দুদক
ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র কর্মকর্তাদের দাবি, তিনজনকেই জেরা করে জানা গেছে- তাদের কোনও অসুস্থতা নেই। দালালের মাধ্যমে মেডিক্যাল ভিসা জোগাড় করেছেন তারা।
তদন্তে জানা গেছে, আনারুল হিলি সীমান্ত দিয়ে ঢুকে মালদহ শহরের রথবাড়ি মোড়ে একটি লজে দুদিন ছিলেন। সেখান থেকে তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার সুতিতে চলে গিয়ে সেখানে ডেরা বাঁধেন বেশ কিছু দিনের জন্য। সুতি থেকে তিনি দু’দফায় তাজমহল খ্যাত আগ্রায় গিয়েছিলেন এই কারবারে জড়িতদের হাতে লক্ষাধিক টাকার জালনোট পৌঁছে দিতে। তারপর তিনি কালিয়াচকে গিয়েছিলেন। ওখানেই ধরা পড়ে যান। আর আনারুলের দুই সহযোগী মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্ট-ভিসা দেখিয়ে ঢুকে গাজলে ছিলেন দু’দিন, তারপর তারাও আনারুলের নির্দেশ মতো কালিয়াচকে গিয়েছিলেন।
আরও খবর পড়ুন-
আনারুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জেনেছেন, ওই যুবক জালনোটের কারবার করা একটি মডিউল বা গোষ্ঠীর সদস্য। তবে তার আগেও নিকট অতীতে একই মডিউলের সদস্যরা বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে জালনোটের কারবার সংক্রান্ত একাধিক বৈঠক করে গেছেন। কিন্তু তারা জালনোট বহন করছিলেন না বলে ধরা পড়েননি।
এনআইএ-র বক্তব্য, মালদহ জেলাকে কেন্দ্র করে চলা জালনোট চক্রের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গত এক বছরে ধরা পড়েছেন। এজন্য এই কারবারে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে জালনোট মালদহের এজেন্টরা পাচ্ছিল না। অথচ আগ্রার মতো জায়গা থেকে খদ্দেররা তাড়া দিচ্ছিল। সেজন্য চক্রের সদস্য আনারুলকে জালনোট পৌঁছে দিতে হয়েছিল আগ্রায় গিয়ে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই লাখ লাখ টাকার জালনোট আনারুলের সঙ্গে সীমান্ত পেরোয়নি। সেটা এসেছিল অন্য পথে। পরে তা আনারুলের কাছে পৌঁছায়। আনারুল ও তার দুই সহযোগী এখন এনআইএ-র হেফাজতে।
আরও খবর পড়ুন-
/এএইচ/







