অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার আমিনুর ইসলাম ও সাকিব হোসেনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমিনুর ইসলামের তিন দিন এবং সাকিবের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত রবিবার (১২ জুলাই) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। সোমবার (১৩ জুলাই) আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন। শুনানি শেষে আদালত আমিনুরের তিন দিন এবং সাকিবের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর অপরাধ। তবে অভিযোগ উত্থাপন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
এ আইনজীবী আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
পুলিশ জানান, আসামি আমিনুর মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) নগদ কোম্পানির থানা পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউট ম্যানেজার। গত ১১ জুলাই রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান এলাকা থেকে সাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন এবং ৫৯টি এমএফএস সিম জব্দ করা হয়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমিনুর তার দায়িত্বের অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে-বেনামে বিপুলসংখ্যক এমএফএস সিম সক্রিয় করে সহযোগীদের কাছে সরবরাহ করতো। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইটের পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনা করা হতো। চক্রটি বিশেষ ধরনের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে এমএফএস হিসাবসংক্রান্ত তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করতো। পরে ওই হিসাবগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন করা হতো।
ওই ঘটনায় অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬ এর ২৪, ২৫ ও ২৭ ধারায় রমনা মডেল থানায় ডিবি সাইবার এবং স্পেশাল ক্রাইমের এসআই আমির হামজা মামলাটি করা হয়েছে।









