রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ হত্যা মামলার এক আসামি বিচারিক আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। এ কারণে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ২৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (১৯ জুলাই) ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীরের আদালতের প্রতি অনাস্থা জানান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিন। তার পক্ষে আইনজীবী মাশরুর হোসাইন সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক।
মাহিনের আইনজীবী মাশরুর হোসাইন বলেন, গত ১২ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ভারী বৃষ্টির কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি সাত আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। একদিন সময় না দিয়ে অভিযোগ গঠন করায় ওই আদালতের প্রতি তাদের আস্থা নেই। এ বিষয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে অনাস্থার আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই আবেদনটির শুনানি হবে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রতি অনাস্থা জানানো হয়েছে বলে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এই মামলার আসামিরা হলেন—মাহমুদুল হাসান মাহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির ও অপু দাস।
তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে, তিন জন জামিনে এবং বাকি আট জন পলাতক।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন একসময় সোহাগের ব্যবসায়িক সহযোগীও ছিলেন। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে প্রথমে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। আদালত গত ২০ জানুয়ারি আবেদন মঞ্জুর করলে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হলে কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ পুনর্তদন্ত শেষে গত ১০ মে ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার শুরুর জন্য গত ২১ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।







