বিচারপতিদের জন্য ‘রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার’ নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে রিট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৬আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২৩:২৩

হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির জন্য অন্তত একজন ‘রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার’ নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এ রিট দায়ের করেন।

পরে আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচারাধীন মামলার জট হ্রাস, গবেষণা নির্ভর বিচারিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিতকরণ এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর ন্যায়বিচার প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে অন্তত একজন রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার নিয়োগের দাবিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

এই রিট কোনও ব্যক্তি, পদ বা প্রশাসনিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়নি। এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণানির্ভর, দক্ষ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাব।

রিটে বলা হয়েছে, বিচারপতিরা শুধু মামলার শুনানি করেন না; তাদের প্রতিদিন সংবিধান, আইন, বিধি, দেশি-বিদেশি নজির, আন্তর্জাতিক বিচারিক সিদ্ধান্ত, জটিল আইনগত প্রশ্ন এবং দীর্ঘ রায় প্রণয়নের মতো অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ এসব কাজে সহায়তার জন্য কোনও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা সহায়ক কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নয়।

রিটে আরও বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদালতের কার্যক্রম শেষে গভীর রাত পর্যন্ত গবেষণা, নজির অনুসন্ধান এবং রায় প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত থাকেন। এই অতিরিক্ত কর্মভার বিচারিক সময় ব্যবস্থাপনা, মামলার নিষ্পত্তির গতি এবং বিচারিক দক্ষতার ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে।

রিটকারীর মতে, প্রত্যেক বিচারপতির সঙ্গে একজন দক্ষ গবেষণা কর্মকর্তা সংযুক্ত করা হলে বিচারপতিরা তাদের মূল বিচারিক দায়িত্বে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন এবং বিচারিক কার্যক্রমের সামগ্রিক গতি বৃদ্ধি পাবে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু উন্নত বিচারব্যবস্থায় বিচারপতিদের সহায়তায় ল ক্লার্ক বা রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেন্স অফিসার নিয়োগ বহু বছর ধরে একটি সফল ও কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

এই কর্মকর্তারা বিচারপতিদের জন্য আইনি গবেষণা, নজির বিশ্লেষণ, তুলনামূলক আইন গবেষণা, আন্তর্জাতিক বিচারিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা, রায় প্রস্তুতি, আইনি স্মারক প্রণয়ন এবং মামলার সারসংক্ষেপ তৈরিতে সহায়তা করেন। ফলে বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হয়।

/বিআই/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি
‘একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি বা ক্ষমতার প্রতি নয়’, অবসরোত্তর সংবর্ধনায় বিচারপতি আশফাকুল
অবসরে গেলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম
সর্বশেষ খবর
শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন
জঙ্গি সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগশেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন
পুকুরে ভাসছিল ট্রাভেল ব্যাগ, ভেতরে কাস্টমস কর্মীর টুকরো টুকরো লাশ
পুকুরে ভাসছিল ট্রাভেল ব্যাগ, ভেতরে কাস্টমস কর্মীর টুকরো টুকরো লাশ
সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ‘ডেভিড ইমন’ 
সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ‘ডেভিড ইমন’ 
খুরশীদ ইরফান আহমেদের মৃত্যুতে আসকের শোক
খুরশীদ ইরফান আহমেদের মৃত্যুতে আসকের শোক
সর্বাধিক পঠিত
বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন: বস্তাভর্তি উত্তরপত্রসহ ধরা পড়লেন শিক্ষক
বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন: বস্তাভর্তি উত্তরপত্রসহ ধরা পড়লেন শিক্ষক
কখন বুঝবেন ‘চাকরিটা এবার ছাড়ার সময় হয়েছে’
কখন বুঝবেন ‘চাকরিটা এবার ছাড়ার সময় হয়েছে’
অভাবের সংসার থেকে বাংলাদেশ টেস্ট দলে, মুশফিকের সংগ্রামের গল্প
অভাবের সংসার থেকে বাংলাদেশ টেস্ট দলে, মুশফিকের সংগ্রামের গল্প
আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব
আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি
যে ফলের দাম আইফোনের চেয়েও বেশি