ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ হামলা শেষে নতুন ধারা বাংলাদেশের ৬ জনকে হেফাজতে নিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ। সেখান থেকে বের করার সময়ও তাদের ওপর হামলা করা হয়।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ১১টা ১০ মিনিটে তাদের কড়া পাহারায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে বের করে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহত অবস্থায় ছয় জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা জনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী।
পুলিশ হেফাজতের নেওয়া নতুন ধারা বাংলাদেশের ৬ নেতাকর্মীরা হলেন- নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।
শাহবাগ থানার ইনচার্জ আল আমিন জানান, ঢাকা মেডিকেলে দেশের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহাসচিবসহ ৬ জন অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে তাদের পুলিশ পাহারায় শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল থেকে আহত অবস্থায় পুলিশে হেফাজতে নেওয়ার সময় ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে দেখা যায় নেতাকর্মীদের।
এর আগে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেড় ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। পরে ফের চালু হয়। এরপর আবারও হামলায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে উভয়পক্ষ আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আসার পর আবারও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার।
এদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আয়াসসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এর আগে আহত শান্তা ফারজানা জানান, সন্ধ্যায় তারা প্রেসক্লাবের সামনে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ মিছিল করেন। এ সময়ে বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ আয়াসের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হয়। এতে তাদের চেয়ারম্যানসহ ছয়জন রক্তাক্ত আহত হন। পরে তারা ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গেলে ২০ থেকে ২৫ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। দফায় দফায় তারা হামলা চালায়। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর রক্তাক্ত এবং আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেছে।
ফারজানা অভিযোগ করেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসক্লাবে মশাল মিছিল নিয়ে প্রতিবাদ করছিলাম। তারা প্রেসক্লাবে এসে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। আবার যখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি, তখনো তারা আমাদের ওপরে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে আহত রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) সদস্য সচিব আয়াস জানান, ফারজানা ও তার সহযোগীরা শহীদ আবু সাঈদকে জুলাই জঙ্গি বলছে এবং ধর্ম নিয়ে অবমাননা করেছে। আমরা তার প্রতিবাদ করলে শান্তা ফারজানা মমিন মেহেদীসহ ৩০ থেকে ৪০ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আহত অবস্থায় আমরা ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে মঞ্চ-২৪ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটূক্তি এবং ধর্মকে অবমাননা নতুন বাংলাদেশে আমরা মেনে নেবো না।









