এক যুগ আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার মেরীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী মো. আব্দুর রহিমকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকার ৫ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এলিনা আক্তার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার আগে আব্দুর রহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পরে পুলিশ পাহারায় তাকে আদালত থেকে বের করে নেওয়া হয়।
তবে খালাসের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শরীফুল ইসলাম লিটন বলেন, খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করব।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২০ মে ফেরদৌসী আক্তার মেরীর সঙ্গে আব্দুর রহিমের বিয়ে হয়। ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন রহিম। ওই সময় স্ত্রী মেরীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে মেরী তার স্বামীকে ধমক দিলে রহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গলা টিপে দেয়ালে চেপে ধরেন। পরে লাথি মেরে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর খাটে শুইয়ে তার বুকের ওপর বসে মুখ চেপে ধরে রাখা হয়। পরদিন সকালে খাটের ওপর মেরীর মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে মেরীর মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে আব্দুর রহিম, তার মা রানী ও বাবা আবু তাহেরকে আসামি করে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি মোহাম্মদপুর থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন বাদী। পরে আদালত সিআইডিকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল আব্দুর রহিমকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন সিআইডির পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক খান। একই প্রতিবেদনে রহিমের মা-বাবাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে আব্দুর রহিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং তার পক্ষে তিনজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।
মামলার যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার আব্দুর রহিমকে খালাসের রায় দেন আদালত।







