চাঁদাবাজির অভিযোগে সাভার মডেল থানার বিতর্কিত এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমানের আদালতে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার মোসা. সুরাইয়া বেগম মামলার আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হরে কৃষ্ণ বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
অপর দুই আসামি হলেন- মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির ও সাদ্দাম হোসেন। এ ছাড়া অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ২২ মে আসামিরাসহ আরও ৭/৮ জন শামীমের রিজশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্যারেজে ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করে। সেখানে থাকা নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেফতার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা এসআই নেয়ামত উল্লাহ।
নেয়ামত উল্লাহ পুলিশ সদস্য হওয়ায় মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। শামীম রেজা ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলা, গ্রেফতার ও পরোয়ানা সংক্রান্ত হয়রানি থেকে রক্ষার কথা বলেও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শামীমের পরিবার দুই দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়।
বাদীর অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগের মামলায় শামীমকে গত ১০ জুন গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নেয়ামত উল্লাহ। শামীমের স্ত্রীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। শামীমকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে তার পরিবারের কাছে দুটি আইফোন চান এ পুলিশ কর্মকর্তা। চার লাখ ৩৪ হাজার টাকায় তাকে ফোন কিনে দেয় শামীমের পরিবার। তবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স পছন্দ হয়নি নিয়ামত উল্লাহর। ১৪ জুন বসুন্ধরার মোবাইলের দোকান থেকে ফোন দুটি পরিবর্তন করে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ওয়ার টেরাবাইট নিজের নামে করে নেন নেয়ামত উল্লাহ।
সুরাইয়া বেগম তার ছেলের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারেন, নেয়ামত উল্লাহ তার ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এ কথা ফাঁস হলে নেয়ামত উল্লাহ তিনটি মোবাইল ফোন ফেরত দেন। তবে টাকা ও আংটি রেখে দেন। কৌশলে শামীমের অন্তরঙ্গ অঙ্গভঙ্গির ছবি তুলে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে ৭৩ হাজার টাকা নেন। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি শামীমের বাড়িতে গিয়ে আগের চাওয়া ৩৮ লাখ টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে সুরাইয়া বেগম সাভার মডেল থানায় মামলা করতে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সুরাইয়া বেগম।
সাম্প্রতিক সময়ে সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহকে ঘিরে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। পরে গণমাধ্যমের শিরোনাম হন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ উঠলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি। পরে বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগী আদালতে মামলা করেন।
শামীম রেজার মাদক মামলার তদন্তকে ঘিরে এসআই নেয়ামত উল্লাহ বিরুদ্ধে আইফোন ও নগদ অর্থ নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠে। অডিও, ভিডিও, কল রেকর্ড ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ঘুষ গ্রহণ, মামলার গোপনীয়তা ভঙ্গ, আলামত গোপন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আসামির স্ত্রীর সঙ্গে তদন্তের সীমা অতিক্রম করা ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভিযোগও রয়েছে।









