জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার কাফরুল থানার হত্যা মামলায় এবার গ্রেফতার দেখানো হলো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা গ্রেফতার দেখানোর তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার শুনানিতে আসামি পক্ষে আইনজীবী বলেন, আসামির রাজনৈতিক কোনও পদ নেই, তিনি একজন প্রফেসর, আওয়ামী লীগের আমলেও তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদ বহন করতেন। এটা থেকেই তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করা হয়েছে।
অপরদিকে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। এবং তিনি বলেন, আসামি আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিল। এবং এই হত্যার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এসময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, আমি ছাত্রজীবন এবং আমার শিক্ষকতার জীবনে কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলাম না এবং এখনও নেই। আমি ভিসি থাকাকালীন সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছি। এতে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমি ভিসি থাকাকালীন সময় জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী আবু সাঈদ ভর্তি হয়েছিলেন। সাঈদ হত্যা নিয়ে আমি প্রতিবাদ করেছি এবং কথা বলেছি। আমি একজন শিক্ষক এর বাইরে আর কিছু না।
আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবী শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানো আদেশ দেন।
গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৪ জুন তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। পরবর্তীকালে একলাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার সাপেক্ষে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনও মামলা না থাকায় তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে গত ৩০ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে যায়। এরপর সম্প্রতি ওই মামলায় জামিন পান তিনি।
গত ৭ সেপ্টেম্বর তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন কাফরুল থানার এসআই জহুরুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে বৃহস্পতিবার।
এদিন শুনানিকালে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কাফরুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন তরিকুল ইসলাম রুবেল। রাত ৮টার দিকে তাদের ওপর গুলি ও হামলা করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তরিকুল ইসলাম রুবেল। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।








