রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের দিকে নজর বেশি রয়েছে পুলিশের।
পুলিশ বলছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সাত থেকে নয়টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া যাত্রীবাহী বাসেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে চেকপোস্টে মোটরসাইকেলের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর পাশাপাশি ঢাকা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট। ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতেও বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি।
মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের সন্দেহজনক যানবাহনে নিবিড় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে।
নিয়াজ মেহেদী বলেন, নগরীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো এবং পিকেট ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে নগরজুড়ে থানা মোবাইল প্যাট্রোল, ফুট প্যাট্রোল ও হোন্ডা প্যাট্রোলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
যেকোনো বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি টিম, সিটিটিসি টিম এবং এপিবিএন টিম মোতায়েন রাখা হয়েছে। নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে ডিএমপির প্রতিটি বিভাগ সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এডিসি (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, ঢাকায় প্রবেশের চারটি পথে পুলিশ কাজ করছে। দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে তল্লাশি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, শুক্রবারের ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাত থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহলও।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। এ সময় ৪৭টি মামলা করা হয়েছে।
এর মধ্যে রমনা বিভাগে ৩০ জন, লালবাগে ৩৪, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৭৬, তেজগাঁওয়ে ৯২, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৩৭, উত্তরা বিভাগে ৪৬ এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১০টি গুলি, তিনটি চাপাতি, পাঁচটি চাকু, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৫৩টি লোহার পেরেক, ৯৪ কেজি ৩৫০ গ্রাম গাঁজা, ১১ হাজার ১৬৭টি ইয়াবা ও ১২১ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি মদ তিন বোতল, ২০ ক্যান বিয়ার, একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও ৭ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।









