ঢাকার পল্লবী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালতে জামিননামা জমা দিয়েছেন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে তিনি উপস্থিত থেকে এ জামিননামা জমা দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন। রবিবার আদালতে এসে তিনি জামিননামা জমা দেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘জামিনের মেয়াদ শেষ হলে (৮ সপ্তাহ পর) তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।’’
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।
মামলার অপর আসামিরা হলেন— আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ারে’ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ি চালাতেন।
এজাহারে বলা হয়, আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির ‘অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’’
বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেন বলে তার গাড়িচালকের অভিযোগ।
মামলায় বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি ‘চক্র’ নজরুল ইসলাম ও ওবায়দুরের ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে।
এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের ‘নির্দেশে’ অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।
সেখানে বলা হয়, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান ‘কৌশলে’ ওবায়দুরকে তাদের বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
একপর্যায়ে আমিনুর ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন ওবায়দুর।
তখন তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে তার ভাষ্য।
মামলায় বলা হয়, হামলার পর আহত অবস্থায় ওবায়দুরকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আসামিরা তাকে ‘যেখানে পাবে সেখানেই’ হত্যার হুমকি দিতে থাকে।









