র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের পর প্রথম কোনো মামলার তদন্তভার পেয়েছে সংস্থাটি। ঢাকার সিএমএম আদালতের নাজির আবুল হাসান কানন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঢাকার মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এসআরবিকে কোনো মামলা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে রবিবার মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নকে (এসআরবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা হলেন, হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি।
আদেশে বলা হয়েছে, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের ১০(গ)-তে উল্লেখ আছে মাদক, সাইবার অপরাধ, ভূমি ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলাটি ভূমি বিষয় জড়িত রয়েছে, সেহেতু স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের ৫(২) ধারা মোতাবেক আদালত মহাপরিচালককে যেকোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করতে পারে। তাই বাদীর নালিশি দরখাস্তটি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) দ্বারা তদন্ত করা যুক্তিযুক্ত। এই আইনের ১৫(২) ধারায় মোতাবেক মহাপরিচালক, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন কোনো সদস্য দিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হলো।
মামলার বিবরণ থেকে, ঢাকার মিরপুর হাউজিং এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত জমিতে নির্মিত বহুতল ভবনের মালিক মো. ইউনুস আলী ও মিসেস রুমা আক্তার স্বপরিবারে কানাডা অবস্থান করছেন। তাদের আপন চাচা মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা সকল প্রকার স্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সকল প্রকার দায়দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে আসামি হেমায়েত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি ওই বাড়িতে তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন দখল ও আত্মসাতের চেষ্টায় লিপ্ত আছেন। তার ধারাবাহিকতায় আসামি হেমায়েতের নেতৃত্বে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জোরপূর্বক বাড়িতে অনুপ্রবেশ করেন এবং দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাদের বাধা প্রদান করলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। এক পর্যায়ে আসামি হেমায়েত বাদী মিজানুরের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা বাড়ীতে প্রবেশ করে ভাংচুর করতে থাকে এবং দুই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।








