সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ থানায় দায়ের করা এজাহারে নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং ঘটক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করেছেন। এজাহারে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এজাহারে মাসুম বিল্লাহ বলেন, তিনি পেশায় একজন মুদি দোকানদার। তার তিন মেয়ে। ভিকটিম মরিয়ম (১৯) তার বড় মেয়ে।
এজাহারে তিনি ১ নম্বর আসামি জিএম নজরুল ইসলামকে (৭৫) তার বড় মেয়ের স্বামী এবং ২ নম্বর আসামি মাকছুদা ইসলামকে (৬৫) মরিয়মের স্বামীর প্রথম স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ৩ নম্বর আসামি মো. ওবায়দুর রহমান (৩৮) তার শ্যালক।
মাসুম বিল্লাহর অভিযোগ, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তার মেয়ের সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় নজরুল ইসলাম তার মেয়ে মরিয়ম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর বাসায় থাকতেন।
এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, ৩ নম্বর আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ১ ও ২ নম্বর আসামি তাদের বাসায় মরিয়মকে রেখে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তার মেয়ে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাদের জানিয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। তখন তিনি তার শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সিএনজিতে করে ওই বাসায় যান।
বাসায় গিয়ে তিনি অনেক লোকজন দেখতে পান। তখন জানতে পারেন, বাসার ভেতরের একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। জানালা দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখানো হয়। কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।
মাসুম বিল্লাহর উপস্থিতিতে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় সাক্ষী মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬) সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সাইদুল ইসলাম পিডব্লিউডিতে প্লাম্বার হিসেবে অস্থায়ীভাবে কর্মরত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভেতরে গিয়ে তারা মরিয়মের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে মরিয়মের বিছানার ওপর তার লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়।
এজাহারে ওই চিরকুটের লেখা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই, তাহা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই... আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমে ছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণেই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’ সেখানে আরও অনেক কিছু লেখা ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি জানতে পারেন, বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় মরিয়ম সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরিয়মের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মর্গে পাঠায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। পরে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার বিষয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এসে এজাহার দিতে দেরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মাসুম বিল্লাহ।









