রাজধানীর উত্তরায় রাজউকের প্লট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহী ওরফে মঞ্জুরুল আলমকে (৬৭) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাছিরের সঙ্গে আসামিদের পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ঢাকায় জমি কেনাবেচার যৌথ ব্যবসা চলছিল। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী, জমি বিক্রির পর লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ বাদী এবং বাকি ৫০ শতাংশ আসামিদের পাওয়ার কথা ছিল।
এর ধারাবাহিকতায় আসামিরা বাদীকে জানান, উত্তরায় রাজউকের একটি পাঁচ কাঠার প্লট রয়েছে। সেটি ৫ থেকে ৬ কোটি টাকায় কিনে পরে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তাদের প্ররোচনায় ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বাদী প্লটটি পরিদর্শন করে বিনিয়োগে সম্মত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমির বায়না ও রেজিস্ট্রির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে পে-অর্ডার ও নগদে বাদীর কাছ থেকে মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে আসামি রাফিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল আলম এবং আরেক আসামি মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহীর অনুকূলে কয়েক কোটি টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া রফিকুল ইসলাম, মো. আনিছুর রহমান মিঞা হাসচিব, হাসনা হেনা ও আসিফ হাসান তুলিপসহ চক্রের অন্য সদস্যরা বাদীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পরও জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আসামিরা কালক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বাদীর ফোন ধরা বন্ধ করে দেন এবং উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত নিজেদের অফিস তালাবদ্ধ করে চলে যান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে সিআইডি চলতি বছরের ৩০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়।
এদিকে, মঞ্জুরুল আলমের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আ.লীগের ১৪ জন রিমান্ডে