রহস্যে ঘেরা সিডিগুলোতেই কি সাগর-রুনি হত্যার ক্লু

বাহাউদ্দিন ইমরান
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪০ আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:০৩

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রায় ৩০০টি সিডি। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিজিটাল আলামতগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে এই হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে।

আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং দোষীদের খুঁজতে অধস্তন আদালতে শতাধিকবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে সময় নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যার কারণে মামলাটির তদন্তে গতি আনতে বিচারপ্রার্থীদের হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলাটি হাইকোর্টে শুনানিতে ওঠে।

মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনিরের মন্তব্যে প্রতীয়মান হয়, সিডিগুলো ঘিরে তদন্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও রহস্যের জট এখনও খোলেনি। প্রায় ৩০০টি সিডির মধ্যে ৯০টির মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। বাকি ২১০টির পর্যালোচনা চলছে।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়িতে তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩০০টি সিডিতে অডিও, ভিডিও, কথোপকথন ও অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাত্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে ৯০টি সিডি মূল্যায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট সিডিগুলো পরীক্ষা করে তথ্য যাচাই করতে আরও সময় প্রয়োজন।

অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে থাকা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটরদের কাছে লিখিতভাবে তথ্য-প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কোনও তথ্য পাওয়া গেলেই তদন্ত শেষ হয়ে যায় না। ফৌজদারি তদন্তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করে সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুনানি শেষে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপক্ষ তদন্তের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে আদালতের কাছে আরও একবছর সময় চেয়েছিল। তবে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার তদন্ত শেষ করতে এত দীর্ঘ সময় দেওয়ার বিরোধিতা করেছে বাদীপক্ষ। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন।

শিশির মনির আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ যে অগ্রগতির কথা জানিয়েছে, তার বড় অংশই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে কিছু আলামত, সিডি ও দুজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এসব তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই এখনও বাকি। আগামী ২৯ এপ্রিল টাস্কফোর্সের প্রধান, সিডি পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে অগ্রগতি জানাবেন। 

হাইকোর্টে উপস্থাপিত তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে

হাইকোর্টে টাস্কফোর্সের সচিব ও তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক অগ্রগতি প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বাধীন যাচাই-বাছাই এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা নির্ধারণের কাজ এখনও বাকি।

‘বিশেষ পর্যবেক্ষণ’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাগরকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষায় দুটি অপরিচিত পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। এসব অজ্ঞাত অপরাধীকে শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রস্তুতকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাব সম্ভাব্য প্রচেষ্টা চালিয়েও ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি। কারণ হিসেবে ডিএনএ’র অধিক মিশ্রণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তদন্তে পাওয়া সন্দেহভাজন সব ব্যক্তি ও আসামির ডিএনএ’র সঙ্গে ওই অজ্ঞাত ডিএনএ মেলে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়।

তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে বলা হয়েছে, মামলাটি তদন্তকালে আগের তদন্ত কর্মকর্তারা মোট ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। টাস্কফোর্স তদন্তকালে ৯০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৪ জনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে। এ ছাড়া ভিসেরা রিপোর্ট পর্যালোচনায় চেতনানাশক পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মামলার আলামত ও ২৫ জন ব্যক্তির সোয়াব সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এবং নেদারল্যান্ডসের একটি ল্যাবে পাঠানো হয়। আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএ’র সঙ্গে পাঠানো ব্যক্তিদের ডিএনএ’র মিল পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিবেদনে পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনাস্থলে মোট চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন ভুক্তভোগী সাগর এবং নারীটি রুনি বলে শনাক্ত হন। বাকি দুই অজ্ঞাত পুরুষের পরিচয় উদ্ঘাটন করা যায়নি। তাদের ডিএনএ থেকে ছবি তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছবি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে নমুনা পাঠানো হয়। কিন্তু ডিএনএতে অধিক মিশ্রণের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ছবি প্রস্তুত করতে পারেনি। দীর্ঘ তদন্তেও ওই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং কারা এতে জড়িত, তা আজ অবধি নির্দিষ্ট করা যায়নি।

প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের কারণে একজনকে হত্যার পর অপরজন আত্মহত্যা করেছেন—এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। পেশাগত কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন এ দম্পতি দেশের বাইরে জার্মানিতে ছিলেন। মৃত্যুর সাত মাস আগে তারা দেশে আসেন। সাগরের কর্মস্থল মাছরাঙা টিভির সহকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পেশাগত দিক থেকে তার কোনও শত্রুতা বা বিরোধের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। সাগর-রুনির মৃত্যুর পর নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সামিট গ্রুপের সঙ্গে তাদের হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অর্থ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা, তদন্তকালে এমন কোনও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন বা ধারকর্জের তথ্যও পাওয়া যায়নি। গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারও সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল না। দাম্পত্য কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, এমন কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ভবনের নিরাপত্তারক্ষী সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ মামলার ঘটনাস্থলের ভবনের নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিরকে র‍্যাব সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে। তিনি এখনও কারাগারে আছেন। আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর কারাগারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তার মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায় এবং তিনি ঠিকমতো উত্তর দিতে না পারায় আদালতের অনুমতি নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। একইসঙ্গে একজন আইনজীবী তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে আদালত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে আসামিকে পরীক্ষা করে আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনের মন্তব্য অংশে বলা হয়েছে, এ মামলায় লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন সেট ও দুটি ল্যাপটপ এখনও উদ্ধার করা যায়নি। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাগর-রুনি হত্যা মামলার মিডিয়া মুখপাত্র ও সাবেক ডিএমপি-ডিবি প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাওয়া যায়নি। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। সাংবাদিক রুমী নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উল্লিখিত ব্যক্তিদের তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা দিকনির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।

নতুন তথ্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এক বক্তব্যে বলেন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় দুদক অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত জব্দ করে দুদক। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন জিও-লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন ছিল। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জিয়াউল আহসানের সহকারী এক সেনাসদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই প্রসিকিউটর প্রাথমিক তদন্তে জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানান। এ বক্তব্য সমর্থন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন।

পরে টাস্কফোর্সের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর ও প্রসিকিউটরের আলোচনাকালে তারা জানান, প্রাথমিকভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউল আহসান ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত তথ্য পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও তারা জানান। এ অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর তাদের কাছে সংরক্ষিত মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য-উপাত্ত তদন্তের জন্য হস্তান্তর করতে আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত তদন্ত করে যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শুনানি শেষে হাইকোর্ট উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন। আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্তের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে টাস্কফোর্সের প্রধানকে তদন্তের অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার তানভীর হাসান জোহাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে নতুন তথ্য ও ক্লু সম্পর্কে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় আদালত তাদের বক্তব্য ক্যামেরা ট্রায়ালের (রুদ্ধদ্বার) মাধ্যমে শুনবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এর আগে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রুনির ভাই নওশের আলী রোমান ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ২০১২ সালের এপ্রিলে র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ সময়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‍্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কিন্তু নির্ধারিত তারিখে উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় সেদিন এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন দফায় ছয় মাস করে সময় দেওয়া হয়।

/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট
কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যা: হানিফসহ ৪ নেতার বিরুদ্ধে রায় ২৯ অক্টোবর
সাগর-রুনি হত্যা: তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে ফের সময় চাইলো টাস্কফোর্স
সর্বশেষ খবর
কক্সবাজারে ১৪ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
কক্সবাজারে ১৪ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে’: আমজনতার তারেক
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে’: আমজনতার তারেক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজেল চুক্তি শুধুই বাণিজ্যিক: ল্যাভরভ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজেল চুক্তি শুধুই বাণিজ্যিক: ল্যাভরভ
মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবালসহ ৫ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
সর্বাধিক পঠিত
২১ লাখ ফলোয়ার, ভোট পেলেন মাত্র ৩৩টি
২১ লাখ ফলোয়ার, ভোট পেলেন মাত্র ৩৩টি
এ বছর শীতের তীব্রতা কেমন হবে
এ বছর শীতের তীব্রতা কেমন হবে
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, এরপর যা ঘটলো মাসুদের সঙ্গে
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, এরপর যা ঘটলো মাসুদের সঙ্গে
জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার ৯০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার ৯০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
‘আপনাদের সম্মানি দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’
‘আপনাদের সম্মানি দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’