দেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও সরবরাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
একইসঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব, কাস্টমস এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি স্থায়ী যৌথ গোয়েন্দা ও সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে।
১০ আইনজীবীর পক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি (মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় মাদকবিরোধী কমিটির (মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) উপদেষ্টার বরাবর নোটিশ পাঠান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন এবং মাদকদ্রব্যের ব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ রাষ্ট্রের অন্যতম সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ দেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবেশ, বিস্তার ও পাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।
নোটিশ গ্রহীতাদের নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে দেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও সরবরাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব, কাস্টমস এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি স্থায়ী যৌথ গোয়েন্দা ও সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অবৈধ লেনদেন ও সরবরাহ প্রতিরোধে বিশেষায়িত সাইবার মনিটরিং ইউনিট গঠন অথবা বিদ্যমান ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার তদন্তের গুণগত মান উন্নয়ন, উচ্চ হারে খালাসের কারণ নিরূপণ এবং মামলার দীর্ঘসূত্রিতা দূরীকরণে সময়াবদ্ধ ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে নোটিশে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলা হয়।
নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে উল্লিখিত দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বার্থে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।