বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে দেশের মহানগর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্লেন্ডেড বা আংশিক অনলাইন ক্লাস চালুর আলোচনা চলছে। এর আগে করোনাভাইরাস মহমারির সময়ে দীর্ঘদিন অনলাইন ক্লাস চালু ছিল। সেই অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হলেও শিশুদের শেখা, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যে নানা প্রভাব পড়ে।
তাই আবার অনলাইন ক্লাস চালু হলে অভিভাবকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে বাড়তি নজর রাখা জরুরি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক-
শেখার ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি?
অনলাইন ক্লাসে অনেক সময় শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও সে ঠিকভাবে বুঝছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে।
নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছে কিনা; শিক্ষক দেওয়া কাজ করছে কিনা; আগের মতো শেখার অগ্রগতি হচ্ছে কিনা। প্রয়োজনে অভিভাবককে সরাসরি পাশে বসে কিছু সময় সহায়তা করতে হতে পারে।
স্ক্রিন টাইম কতটা বাড়ছে?
অনলাইন ক্লাস মানেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় গেম, ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়া।
নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করতে হবে; ক্লাসের মাঝে বিরতি নেওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে; চোখ ও শরীরের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ছে কি?
দীর্ঘ সময় ঘরে থাকা ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় শিশুর মধ্যে একাকীত্ব, বিরক্তি বা চাপ তৈরি হতে পারে।
আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে কি না খেয়াল করুন; অতিরিক্ত চুপচাপ বা রাগী হয়ে যাচ্ছে কিনা দেখুন; নিয়মিত কথা বলে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
শারীরিক কার্যক্রম হচ্ছে কি?
অনলাইন ক্লাসের সময় শিশুদের শারীরিক নড়াচড়া কমে যায়। এতে স্থূলতা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
প্রতিদিন কিছু সময় খেলাধুলা বা ব্যায়াম নিশ্চিত করুন; দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকা কমাতে বিরতি দিন।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সঠিক দিকনির্দেশনা
সব শিশু প্রযুক্তি ব্যবহারে সমান দক্ষ নয়। আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ঝুঁকিও থাকে।
কোন অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে তা নজরে রাখুন; অপরিচিত লিংক বা কনটেন্টে না যেতে শেখান; প্রয়োজন অনুযায়ী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করুন।
ঘরের পরিবেশ কেমন?
অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে ঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ।
শান্ত ও নির্দিষ্ট একটি জায়গা নির্ধারণ করুন; ক্লাসের সময় টিভি বা অন্যান্য বিভ্রান্তি কম রাখুন; ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত করুন।
শিক্ষক ও স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ
অনলাইন ক্লাসে শিশুর অগ্রগতি বুঝতে শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগ আরও জরুরি হয়ে পড়ে।
নিয়মিত ফিডব্যাক নিন; কোনও সমস্যা হলে দ্রুত জানিয়ে সমাধান করুন।
শেষ কথা
আবার অনলাইন ক্লাস চালু হলে শুধু ডিভাইস বা ইন্টারনেট থাকলেই দায়িত্ব শেষ নয়। শিশুর শেখা, মানসিক অবস্থা, শারীরিক সুস্থতা—সবকিছুর দিকেই সমানভাবে নজর রাখতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা আর সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে অনলাইন ক্লাসকে কার্যকর ও শিশুবান্ধব করে তুলতে।









