রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারই রান্না নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চুলায় আগুন জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু শিখা এতটাই দুর্বল যে একটি সাধারণ খাবার রান্না করতেও লেগে যাচ্ছে অনেক বেশি সময়।
এমন পরিস্থিতিতে শুধু গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করলেই হবে না, রান্নার পদ্ধতিতেও আনতে হবে কিছু পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করলে কম চাপের গ্যাসেও তুলনামূলক কম সময়ে এবং কম জ্বালানিতে রান্না করা সম্ভব।
রান্না শুরুর আগে সব প্রস্তুতি নিন
অনেকেই গ্যাস জ্বালিয়ে তারপর সবজি কাটেন, মসলা তৈরি করেন বা উপকরণ গোছান। এতে অকারণে গ্যাস খরচ হয়।
রান্না শুরুর আগে সব উপকরণ ধুয়ে, কেটে ও মসলা প্রস্তুত করে রাখুন। এরপর চুলা জ্বালালে যতক্ষণ গ্যাস থাকবে, পুরো সময়টাই রান্নার কাজে লাগবে।
ঢাকনা ব্যবহার করুন
রান্নার সময় ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং গ্যাসও কম লাগে।
প্রয়োজন ছাড়া বারবার ঢাকনা খুলবেন না। প্রতিবার ঢাকনা খোলা হলে তাপ বেরিয়ে যায়, ফলে আবার সেই তাপ তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় ও গ্যাস লাগে।
ডাল, ছোলা বা মাংস আগে থেকে প্রস্তুত করুন
ডাল, ছোলা বা শিমজাতীয় খাবার কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সিদ্ধ হয়।
মাংস রান্নার ক্ষেত্রেও ছোট টুকরো করলে তাপ ভেতরে দ্রুত পৌঁছায়, ফলে রান্নার সময় কমে আসে।
বার্নার ও পাত্রের আকার মিলিয়ে নিন
ছোট পাত্রের নিচে বড় শিখা থাকলে তাপের একটি অংশ পাত্রের বাইরে চলে যায়।
আবার বড় পাত্রে খুব ছোট বার্নার ব্যবহার করলেও রান্না ধীর হয়ে যায়। তাই হাঁড়ি, কড়াই ও বার্নারের আকার যতটা সম্ভব মিলিয়ে ব্যবহার করুন।
প্রেশার কুকার থাকলে সেটিই ব্যবহার করুন
ডাল, আলু, মাংস বা শক্ত ধরনের খাবার রান্নায় প্রেশার কুকার উল্লেখযোগ্য সময় ও গ্যাস সাশ্রয় করতে পারে।
চাপের মধ্যে পানি বেশি তাপমাত্রায় ফুটতে পারে বলে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয়।
সমতল তলার পাত্র ব্যবহার করুন
বাঁকা বা অসমান তলার হাঁড়ি বা কড়াইয়ে তাপ সমানভাবে ছড়ায় না।
ভারী ও সমতল তলার হাঁড়ি বা পাতিল তাপ ধরে রাখতে পারে বেশি সময়, ফলে রান্না দ্রুত শেষ হয়।
বার্নার পরিষ্কার রাখুন
বার্নারের ছিদ্রে ময়লা জমে থাকলে শিখা দুর্বল হয়ে যায়।
নিয়মিত পরিষ্কার করলে গ্যাস সমানভাবে বের হয় এবং জ্বালানি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়।
একবার গ্যাস এলে পরিকল্পনা করে রান্না করুন
যদি নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ে, তাহলে সেই সময়ে একাধিক খাবার রান্না করে রাখা যেতে পারে।
একসঙ্গে ভাত, ডাল ও তরকারির প্রস্তুতি নিলে পরে আলাদা করে বারবার চুলা জ্বালাতে হয় না।
প্রয়োজনমতো পানি ব্যবহার করুন
অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি দিয়ে রান্না করা হয়।
অতিরিক্ত পানি গরম হতে বেশি সময় লাগে, ফলে গ্যাসও বেশি খরচ হয়। তাই খাবারের ধরন অনুযায়ী যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই পানি ব্যবহার করুন।
আঁচের ব্যবহার বুঝে করুন
খাবার ফুটে ওঠার পর অনেক ক্ষেত্রেই খুব বেশি আঁচের দরকার হয় না। তখন মাঝারি বা কম আঁচে রান্না চালিয়ে নেওয়া যায়।
তবে গ্যাসের শিখা যদি খুবই দুর্বল হয়, তাহলে অযথা দীর্ঘ সময় চুলা জ্বালিয়ে রাখার চেয়ে অপেক্ষা করে তুলনামূলক ভালো চাপের সময় রান্না করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখুন
গ্যাসের চাপ কম থাকলে অনেকেই চুলার নব দীর্ঘ সময় খোলা রেখে অপেক্ষা করেন। এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চুলা জ্বালানোর আগে শিখা ধরানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে নব বন্ধ করুন, জানালা-দরজা খুলে দিন এবং কোনো আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
ছোট কিছু পরিবর্তনই বড় সাশ্রয়
গ্যাস সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সাধারণ মানুষের হাতে নেই। তবে রান্নার অভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তন এনে কম চাপের গ্যাসেও সময়, জ্বালানি ও ভোগান্তি—তিনটিই কিছুটা কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা করে রান্না করা, তাপের অপচয় কমানো এবং সঠিক রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহার—এই তিনটি বিষয়ই গ্যাস সংকটের সময় সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।
