অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ‘আমরা খাঁটি গরিব’ প্রতি বছরের মতো এ বছরও আয়োজন করতে যাচ্ছে আম উৎসবের। একযোগে দেশের ৭টি বিভাগে পথশিশুদের নিয়ে আয়োজনটি করা হবে। গ্রুপের সদস্যদের দেওয়া সাহায্যের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই আম উৎসবের ফান্ডের একটি বড় অংশ আসে স্বেচ্ছাসেবীদের নানা উপায়ে সাহায্য সংগ্রহের মাধ্যমে।
এবারের এই সংগ্রহের জন্য ‘আমরা খাঁটি গরিব’ গ্রুপের স্বেচ্ছাসেবীরা নিয়েছে ভিন্ন এক উদ্যোগ। নিজেদের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। ৩১ মে (শুক্রবার) পরিবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে মেলা। মেলায় থাকবে নিজেদের হাতে ডিজাইন করা টিশার্ট, বিভিন্ন ধরনের গহনা, হাতে ডিজাইন করা পানির বোতল, গয়নার বাক্স, নিজস্ব ডিজাইনের পোস্টার, বুক মার্ক, চাবির রিংসহ নানা পণ্য। এর পাশাপাশি মেলায় সরাসরি গান শোনার ব্যবস্থা থাকছে দর্শনার্থীদের জন্য। থাকছে হাতে মেহেদি দেওয়া, ছবি তোলা ও ক্যারিকেচার আঁকানোর সুযোগ। এমনকি বসে বসে গল্পের বই পড়ার ব্যবস্থাও থাকবে। বিনিময়ে সবার কাছে কেবল সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য চাইছেন আয়োজকরা, যেটি চলে যাবে শিশুদের আম উৎসবে। মেলার আয়োজক দলের বড় একটি অংশই কিশোর-কিশোরী। তারা রাত জেগে কাজ করছে শুধুমাত্র অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।
‘আমরা খাঁটি গরিব’ গ্রুপের সঙ্গে প্রায় শুরু থেকে আছেন নাসিরুল আলম মণ্ডল ও তিথি হোসেন। তারা জানান, ২০১০ সালে শীতবস্ত্র প্রদানের মাধ্যমে শুরু হওয়া গ্রুপটি এর আগেও মধু মাসে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে তুলে দিয়েছে রসালো আম। চাকরিজীবী স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী- সবার একযোগে কাজ করেন প্রাণের এই সংগঠনের জন্য। এর আগে অন্যান্য আয়োজনের জন্য সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা হাতে তৈরি বিভিন্ন অরিগামি পণ্য বিক্রি করেছেন স্কুলগুলোতে। সৈকত, রিচেসসহ আরও বেশ কয়েকজন তরুণ সরাসরি আয়োজনের তত্ত্বাবধানে আছেন। নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর।







