শীতের শেষে প্রকৃতি সেজেছে বসন্তের নতুন ফুল আর কুঁড়িতে। ফাগুনের এলোমেলো হাওয়া মন মাতিয়ে গেলেও রুক্ষতার ছাপ ফেলে যায় আমাদের শরীরে। এ সময় বাতাসে ধুলোবালির উপদ্রব থাকে বেশি। আবার রোদের প্রখরতাও বাড়তে থাকে ক্রমেই। এগুলোর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল। দ্রুত চুল হয়ে ওঠে শুষ্ক ও প্রাণহীন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। তাই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়টায় চুলের যত্নে বাড়তি কিছু করা চাই। সঠিক পরিচর্যা ও একটু যত্ন চুল পড়ার সমস্যা থেকে দিতে পারে মুক্তি।
কী করবেন, কী করবেন না
চুল পড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ চুল পরিষ্কার না রাখা। অনেকে সারাদিনের ব্যস্ততায় চুলের পরিচর্যা করতে পারেন না। এ সময় বাতাসে ধুলোবালি ওড়ে খুব। তাই বাইরে যাওয়ার সময় চুল বেঁধে যাওয়াই ভালো। ভেজা চুলে কখনও বাইরে যাবেন না। কারণ চুল ভেজা থাকলে ময়লা বেশি আটকায়। পরে চুল শুকিয়ে গেলেও ময়লা রয়ে যায়। বেশি তাড়া থাকলে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকিয়ে নিন। তবে নিয়মিত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে।
চুলে তেল দিয়েও বাইরে যাওয়া উচিত নয়। বাইরে থেকে ফিরে এসে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন। লক্ষ্য রাখবেন শ্যাম্পু করার সময় যেন প্রতিটি চুলের গোড়া পরিষ্কার হয় ঠিকমতো। না হলে ময়লা জমতে জমতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল উঠে আসে।
শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন সঠিকভাবে
শ্যাম্পু করারও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। শ্যাম্পু মাথায় দিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে আঙুলের সাহায্যে ম্যাসাজ করে চুলের গোড়া পরিষ্কার করে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর শ্যাম্পুটি অবশ্যই যেন হয় আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী। ক্রিম কন্ডিশনার লাগানোর আগে চুল চিপে পানি ঝরিয়ে ফেলতে হবে। তারপর হাতের তালুতে কন্ডিশনার নিয়ে চুলের আগা থেকে লাগানো শুরু করে পুরো চুলে লাগাতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখবেন চুলের একেবারে গোড়ায় যেন কন্ডিশনার না পৌঁছতে পারে। চাইলে বাসায়ও তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। এজন্য প্রথমে এক লিটার পানিতে এক চা চামচ চা পাতা ফুটিয়ে নিন। লিকার ঠান্ডা হয়ে এলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পু করার শেষে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে রুক্ষতা দূর হয়ে চুল হবে প্রাণবন্ত। সাদা সিরকাও পানিতে মিলিয়ে কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু করার পর ঘষে ঘষে চুল মুছবেন না। তোয়ালে হালকাভাবে পেঁচিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। পানি ঝরে গেলে প্রাকৃতিক বাতাসে শুকিয়ে নিন। ভেজা চুল কখনও ব্রাশ দিয়ে আঁচড়াবেন না। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে। এ সময় আঁচড়ালে চুল উঠে আসতে পারে।
কোন কোন প্যাক ব্যবহার করবেন?
চুল পড়া রোধ করতে সপ্তাহে একবার হট ওয়েল ট্রিটমেন্ট করতে পারেন। এ জন্য নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। তারপর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে চুলে গরম ভাপ নিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে চুল ফাটা ও ঝরে যাওয়া রোধ হবে। এছাড়া মেহেদির রস চুলের গোড়া শক্ত করে। তাই চুলে মেহেদি দিতে পারেন মাঝে মধ্যে। তবে যাদের চুল শুষ্ক ধরনের তারা খুব বেশি মেহেদি ব্যবহার করবেন না। চুল পড়া কমাতে বাসায় তৈরি হেয়ার প্যাক বেশ উপকারী। ব্যবহার করতে পারেন এগুলোও। পাকা কলার সঙ্গে মধু এবং টক দই মিশিয়ে মিশ্রণটি চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ভালো করে লাগান। তারপর ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে তৈরি করতে পারেন প্রাকৃতিক হেয়ার প্যাক। এ প্যাক তৈরি করতে কলাসহ সব ধরনের ফল এক সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। মিশ্রণটির সঙ্গে একটু টক দই, লেবু ও মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই।
টিপস
- ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টাতে এমনিতেই কিছু চুল পড়তে পারে। খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।
- সম্ভব হলে ভালো একটি পার্লার থেকে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়ে নেবেন।
- খুশকি থেকেও চুল পড়ে। বেশি খুশকি থাকলে অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
- খাদ্যাভ্যাসের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। ভাজা-পোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রচুর ফলমূল খাবেন ও পানি পান করবেন।









