কারিনা কাপুর ও ঋতু কুমারের সম্পর্ক শুধু ফ্যাশনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পেশাগত যোগাযোগে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ বোঝাপড়া। তাই ঋতু কুমারের নতুন কুতুর সংগ্রহে কারিনা যখন মিউজ হয়ে হাজির হলেন, সেটি হয়ে উঠলো ফ্যাশন ক্যাম্পেইনের চেয়েও বেশি কিছু। ঐতিহ্য, রাজকীয়তা আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রতিটি লুকেই যেন ফুটে উঠলো নতুন এক গল্প।
স্টাইলিস্ট রিয়া কাপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাম্পেইনের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। প্রতিটি পোশাকে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের চমৎকার সংলাপ দেখা গেছে। আর সেই গল্পকে নিজের স্বভাবসুলভ আত্মবিশ্বাসে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন কারিনা।
প্রথম লুকেই নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী। কালো ও মরচে-রঙের ‘মেহরোজ’ বডিস্যুটের সঙ্গে ছিল একই রঙের নাটকীয় কেপ। শরীরের সঙ্গে মানানসই বডিস্যুটটির উঁচু গলার নকশা ও করসেট-অনুপ্রাণিত কাঠামো তৈরি করেছে আধুনিক সিলুয়েট। এর ওপর মরচে, বাদামি, হালকা সবুজ ও সোনালি রঙের সূক্ষ্ম মোটিফে ফুটে উঠেছে ভারতীয় নকশার ছোঁয়া।
তবে এই লুকের আসল নাটকীয়তা তৈরি করেছে মেঝে ছোঁয়া কেপটি। কাঁধ থেকে নেমে শরীরের চারপাশে ঢেউ খেলানো এই কেপে ছিল পেইসলি-অনুপ্রাণিত নকশা, অলংকৃত বর্ডার, ধাতব কারুকাজ ও সূক্ষ্ম সূচিকর্ম। ফলে পুরো সাজে তৈরি হয়েছে একেবারে রাজকীয় আবহ।
দ্বিতীয় লুকে কারিনার পরনে ছিল ঝলমলে সোনালি ভি-নেক কুর্তা। এর সঙ্গে কালো ও সোনালি ‘জিবা’ জ্যাকেট। সোনালি সুতোয় করা সূক্ষ্ম কারুকাজ জ্যাকেটটিকে দিয়েছে রাজকীয় আভিজাত্য।
তবে এই সাজের সবচেয়ে চমক ছিল বিশেষভাবে তৈরি জিনস। রিয়া কাপুর ও ‘লেবেল ঋতু কুমার’-এর বর্তমান ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর অমরিশ কুমারের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই জিনসে ব্যবহার করা হয়েছে সোনালি সূচিকর্ম। আর সেই নকশার অনুপ্রেরণা এসেছে ফ্যাশন হাউসটির আর্কাইভে সংরক্ষিত এক বৃদ্ধের শেরওয়ানির পুরোনো মোটিফ থেকে।
পুরোনো ঐতিহ্যের একটি নকশাকে আধুনিক ডেনিমে তুলে ধরার এই ভাবনাই লুকটিকে করেছে ব্যতিক্রমী।
ক্যাম্পেইনের অন্যতম আকর্ষণ ‘জয়সলমের জ্যাকেট অ্যান্ড স্কার্ট’। রাজস্থানের স্থাপত্য ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি এই পোশাকে ছিল ফিটেড জ্যাকেট ও পেন্সিল স্কার্ট। উজ্জ্বল লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী ব্লক প্রিন্টে সাজানো পোশাকটি দূর থেকেই নজর কাড়ে।
এর ওপর আরি, টিক্কি ও জরদৌজি সূচিকর্মে যোগ হয়েছে আরও সূক্ষ্মতা। পুরো পোশাক তৈরিতে কারুশিল্পীদের লেগেছে ৬০০ ঘণ্টারও বেশি সময়। ফলে এই লুক কারুশিল্পীদের দীর্ঘ পরিশ্রম ও ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধারও প্রকাশ।
ক্যাম্পেইনের পরবর্তী লুকে কারিনাকে দেখা যায় ভিনটেজ আবহে। পিচ রঙের মাল্টি-পিচ প্যাচ শাড়ির সঙ্গে ছিল ফুল-স্লিভ ও করসেট-ধাঁচের ভি-নেক ব্লাউজ। শাড়ির চিরায়ত সৌন্দর্যের সঙ্গে ব্লাউজের আধুনিক কাট তৈরি করেছে আকর্ষণীয় বৈপরীত্য।
আরেকটি লুকে অভিনেত্রীর পরনে ছিল বেইজ-সোনালি কোট গাউন। গভীর হার্ট-শেপের নেকলাইন, লম্বা ট্রেন এবং শরীরজুড়ে স্বচ্ছন্দে নেমে আসা কোটে ছিল পেইসলি মোটিফ ও জরদৌজি কারুকাজ। রাজকীয় এই পোশাক কারিনার লুকে যোগ করেছে গ্ল্যামারের বাড়তি মাত্রা।
সংগ্রহের শেষ লুকটিও ছিল বেশ নজরকাড়া। কাঠামোবদ্ধ মিরর-ওয়ার্ক জ্যাকেটের সঙ্গে কারিনা পরেছিলেন ফ্লেয়ার্ড স্কার্ট ও মানানসই টিউনিক। ধাতব সূচিকর্ম ও জ্যামিতিক নকশা ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পকে দিয়েছে সমকালীন ফ্যাশনের ভাষা।
পুরো ক্যাম্পেইনে গয়না রাখা হয়েছে তুলনামূলকভাবে সংযত। শীতল ও উষ্ণ রঙের মিশেল এবং সামান্য রঙের ব্যবহার গয়নায় থাকলেও মূল আকর্ষণ ছিল পোশাকের কারুকাজ। ভারী এমব্রয়ডারি, সূক্ষ্ম মোটিফ ও নাটকীয় সিলুয়েটকেই তাই সামনে রাখা হয়েছে।
ঋতু কুমারের এই সংগ্রহে জয়সলমের ও রাজস্থানের ঐতিহ্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি আধুনিক কাট, ডেনিম, গাউন ও কাঠামোবদ্ধ পোশাকের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য পেয়েছে নতুন রূপ। আর কারিনা কাপুরের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি পুরো গল্পটিকে দিয়েছে আরও গ্ল্যামারাস, সমকালীন এক মাত্রা।









