মাছ খাওয়ার সময় শিশুর গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া বেশ আতঙ্কের পরিস্থিতি। এমন হলে অনেকেই দ্রুত ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাইয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এ ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গিয়ে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি করতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ভাত বা পাউরুটি খাইয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা নয়
গলায় কাঁটা আটকে গেলে শিশুকে জোর করে ভাতের দলা, পাউরুটি বা কলা খাওয়ানো ঠিক নয়। এতে কাঁটাটি আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে। একইভাবে ভিনিগার বা লেবুর রস খাওয়ালেও কাঁটা গলে যাবে এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
আঙুল, চামচ বা কোনও সরঞ্জাম গলার ভেতরে ঢুকিয়ে কাঁটা বের করার চেষ্টাও করা উচিত নয়। এতে গলার টিস্যুতে আরও আঘাত লাগতে পারে।
শিশু শ্বাস নিতে পারলে কী করবেন?
শিশু যদি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারে এবং কাশতে পারে, তাকে শান্ত রাখুন এবং স্বাভাবিকভাবে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশির মাধ্যমেই কাঁটা বেরিয়ে আসতে পারে। তবে জোর করে খাবার বা পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।
কাঁটা বেরিয়ে গেলেও কিছু সময় গলায় খচখচ বা ব্যথার অনুভূতি থাকতে পারে। কারণ কাঁটা গলার ভেতরে সামান্য আঁচড় তৈরি করতে পারে। তাই শুধু অস্বস্তি হচ্ছে বলেই বারবার গলায় হাত দিয়ে কাঁটা খোঁজার চেষ্টা করা উচিত নয়।
কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?
শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট, শ্বাস বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি, গিলতে না পারা, মুখে রক্তপাত, তীব্র বা বাড়তে থাকা ব্যথা, অতিরিক্ত লালা পড়া, গলা বা ঘাড় ফুলে যাওয়া কিংবা কাঁটা আটকে থাকার অনুভূতি অব্যাহত থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
বিশেষ করে শিশুর শ্বাসনালিতে কিছু আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে এটি জরুরি অবস্থা। সে ক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায় প্রয়োগ করে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গলায় মাছের কাঁটা আটকালেই ভাতের দলা বা অন্য কোনও খাবার দিয়ে জোর করে কাঁটা নামানোর চেষ্টা না করা। শিশুর ক্ষেত্রে সামান্য সন্দেহ থাকলেও নিরাপদ পদ্ধতি হলো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।