পূজা মানেই রাত জেগে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর ঠাকুর দেখার আনন্দ। কিন্তু সারারাত ঘুম না হলে পরদিন সকালে চোখের তলায় কালচে ছাপ, ফোলাভাব আর ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। অথচ সন্ধ্যায় আবার সাজগোজ করে বেরোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চটজলদি চোখের ক্লান্তিভাব কমাতে অনেকেই ভরসা রাখছেন ‘আন্ডার আই প্যাচ’-এর ওপর। কিন্তু সত্যিই কি এই প্রসাধনী চোখের তলার কালি ও ফোলাভাব দূর করতে পারে?
আই প্যাচ কী?
আন্ডার আই প্যাচ হল চোখের নীচের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য তৈরি এক ধরনের ছোট মাস্ক। সাধারণত জেল, হাইড্রোজেল বা সিলিকনের তৈরি এই প্যাচে বিভিন্ন প্রসাধনী উপাদান থাকে। কিছু প্যাচে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ক্যাফিন, নিয়াসিনামাইড বা পেপটাইডের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়।
এই উপাদানগুলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সাময়িকভাবে ত্বককে মসৃণ দেখাতে সাহায্য করতে পারে। কিছু পণ্যে থাকা ক্যাফিন সাময়িকভাবে চোখের নীচের ফোলাভাব কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব আই প্যাচের কার্যকারিতা এক রকম নয়।
চোখের তলার কালি কি সত্যিই কমে?
চোখের নীচে কালচে ছাপ পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ঘুমের অভাব, বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়সের সঙ্গে ত্বকের পরিবর্তন, অ্যালার্জি কিংবা চোখের নীচে ছায়া তৈরি হওয়ার মতো বিষয় এর জন্য দায়ী হতে পারে।
আই প্যাচ ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতা বাড়লে চোখের নীচের অংশ সাময়িকভাবে সতেজ ও মসৃণ দেখায়। ঠান্ডা প্যাচ ব্যবহারে ফোলাভাবও কিছুটা কমে। কিন্তু দীর্ঘদিনের কালি বা ঘুমের অভাবে তৈরি ক্লান্তির ছাপ একটি প্যাচ ব্যবহার করলেই পুরোপুরি দূর হয়ে যায় না। কোলাজেন রয়েছে এমন পণ্য ব্যবহার করলেও ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ নেই।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন আই প্যাচ?
প্রথমে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। এরপর প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী চোখের নীচে প্যাচ বসান। প্যাচ যেন চোখের ভেতরে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অধিকাংশ প্যাচ ১০–২০ মিনিট রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পণ্যের গায়ে লেখা সময়ই মেনে চলুন। দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে বেশি উপকার হবে, এমন নয়।
ঠান্ডা অনুভূতি পেতে প্যাচটি কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখতে পারেন, যদি প্রস্তুতকারকের নির্দেশে অনুমতি থাকে। তবে ফ্রিজারে রেখে জমিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
প্যাচ খুলে ত্বকে অবশিষ্ট সিরাম আলতো করে বসিয়ে দিন। প্রয়োজন হলে চোখের চারপাশের জন্য উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সংবেদনশীল ত্বক হলে সুগন্ধি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে এমন উপাদান এড়িয়ে চলুন। প্রথমবার ব্যবহারের আগে পণ্যের উপাদান দেখে নেওয়া ভালো।
কত বার ব্যবহার করা উচিত?
আই প্যাচ প্রতিদিন ব্যবহার করতেই হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। পণ্যের নির্দেশ এবং ত্বকের সহনশীলতা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। কোনও প্যাচে জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা ফোলাভাব দেখা দিলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন। চোখের ভেতরে পণ্য ঢুকে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
শুধু আই প্যাচ নয়, ঘুমও জরুরি
রাত জেগে প্যান্ডেল ঘোরার পর চোখের ক্লান্তিভাব কমাতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করুন, চোখের চারপাশে বার বার ঘষাঘষি করবেন না এবং অ্যালার্জি থাকলে তার উপযুক্ত চিকিৎসা করান।
চোখের নীচে দীর্ঘদিন ধরে কালি বা ফোলাভাব থাকলে, কিংবা হঠাৎ এক চোখে ফোলা, ব্যথা বা দৃষ্টির সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পূজার সাজে সতেজ চোখ পেতে আই প্যাচ সাময়িক সহায়ক হতে পারে। তবে এক রাতের ঘুমের ঘাটতি ঢাকতে শুধু প্রসাধনীর ওপর নির্ভর না করে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিন।