সুন্দর, উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেন অনেকেই। অথচ রান্নাঘরেই প্রতিদিন তৈরি হওয়া একটি উপাদান নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। সেটি হলো ভাতের ফ্যান বা মাড়। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও সুস্থতা বজায় রাখতে এর কিছু উপাদান ভূমিকা রাখে। তবে ভাতের ফ্যান খেলেই ‘গ্লাস স্কিন’ পাওয়া যাবে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ত্বকের জন্য কতটা উপকারী ভাতের ফ্যান?
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভাতের ফ্যানে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা এবং সেরামাইড, যা ত্বকের বাইরের স্তর বা রক্ষাকবচকে শক্তিশালী করে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ স্টাডির অধীনে হওয়া এক গবেষণায় গবেষকেরা দেখেছেন, নিয়মিত ভাতের ফ্যান খেলে দীর্ঘ সময় ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। ফলে বার্ধক্যজনিত ছাপ কম পড়ে। কোলাজেন ঠিক মতো কাজ করে। ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা টানটান ভাবও বজায় থাকে। এমনকি, ত্বকের রক্ষাকবচ শক্তিশালী হওয়ায় ব্যাক্টেরিয়াজনিত সমস্যা যেমন ব্রণ, ফুসকুরি, র্যাশ ইত্যাদিও অনেক কম হয়। দূষণের প্রভাবও কম পড়ে।
তবে মনে রাখতে হবে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
যেহেতু ভাতের ফ্যানে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে ত্বককে সুস্থ রাখে, তাই কোলাজেনও সক্রিয় হয়। ত্বক হয় তারুণ্যে ভরা। তাতে যেমন মাখনের মতো উজ্জ্বল বিভা থাকে, তেমনই থাকে কাচের মতো ঝকঝকে মসৃণ ভাব।
কীভাবে খেতে পারেন?
ভাতের ফ্যান খেতে চাইলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভাত রান্না করে তৈরি হওয়া মাড় অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। স্বাদের জন্য সামান্য লেবুর রস মেশানো যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ না দেওয়াই ভালো। খাবারটি নিরাপদ রাখতে পরিষ্কার পাত্র ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেবেন না।
কারা সতর্ক থাকবেন?
অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অল্পবয়সি শিশু, ডায়াবিটিসের রোগী, গ্যাসের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং যারা দিনে বেশ কয়েক বার ভাত খান, তাদের ভাতের ফ্যান আলাদা করে না খাওয়াই ভালো।
ডায়াবিটিস থাকলে মনে রাখতে হবে, ভাতের ফ্যানে শর্করা থাকে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। তাই পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, শুধু ভাতের ফ্যান খেয়ে ত্বকের দাগ, ব্রণ বা বলিরেখা দূর করা সম্ভব না। ত্বক সুস্থ রাখতে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও পরিচর্যাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।