একটু লাল, একটু গোলাপি: ঠোঁটের রঙে আজ উৎসব

জীবনযাপন ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:০৭আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:০৭

লিপস্টিক ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া অনেক নারীর কাছে যেন অসম্পূর্ণ সাজের মতো। কিছু জরিপ বলছে, প্রায় ২৫ শতাংশ নারী মনে করেন লিপস্টিক ছাড়া বাইরে যাওয়া অনেকটা পোশাক ছাড়া বের হওয়ার মতোই অস্বস্তিকর।

এই ছোট্ট প্রসাধনীটি যে সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসে কতটা বড় ভূমিকা রাখে, সেটির প্রতি সম্মান জানাতেই পালিত হয় জাতীয় লিপস্টিক দিবস।

ছোট্ট একটি লিপস্টিকের শক্তি কিন্তু কম নয়। এটি শুধু ঠোঁটে রং যোগ করে না, বরং বাড়িয়ে দেয় আত্মবিশ্বাস, প্রকাশ করে ব্যক্তিত্ব এবং কখনো কখনো বদলে দেয় পুরো সাজের ধরন। এই ছোট্ট কিন্তু প্রভাবশালী প্রসাধনীর প্রতি ভালোবাসা জানাতেই পালিত হয় জাতীয় লিপস্টিক দিবস।

যেভাবে উদ্‌যাপন করবেন লিপস্টিক দিবস

এই দিনটি উদ্‌যাপনের জন্য বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। পছন্দের লিপস্টিকটি ঠোঁটে লাগিয়ে নিজের স্টাইলকে একটু নতুনভাবে তুলে ধরুন। চাইলে নতুন কোনও শেড চেষ্টা করতে পারেন, কিংবা প্রিয় রঙটিকেই আবার ফিরিয়ে আনতে পারেন সাজে।

কারও কাছে লিপস্টিক শুধু প্রসাধনী, আবার কারও কাছে এটি আত্মবিশ্বাসের ছোট্ট একটি অস্ত্র। তাই নিজের পছন্দের রঙে নিজেকে সাজিয়ে উদ্‌যাপন করুন দিনটি।

কিনে ফেলুন নতুন একটি লিপস্টিক

জাতীয় লিপস্টিক দিবস উপলক্ষে নিজের জন্য একটি নতুন লিপস্টিক কেনার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। ঘুরে দেখতে পারেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কসমেটিকসের দোকান কিংবা প্রসাধনী বিভাগ। কে জানে, হয়তো নতুন কোনও শেডই হয়ে উঠবে আপনার নতুন প্রিয়।

উজ্জ্বল লাল, নরম গোলাপি, নিউড, কোরাল কিংবা একটু সাহসী সবুজ, নীল বা বেগুনি লিপস্টিকের দুনিয়ায় রঙের কোনও অভাব নেই। নিজের মুড ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী বেছে নিন আপনার পছন্দের রঙ।

কারণ লিপস্টিকের ক্ষেত্রে নিয়ম একটাই- যে রঙে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী লাগে, সেটিই আপনার জন্য সেরা।

লিপস্টিকের নামেও আছে মজা

লিপস্টিকের রঙের নামও কম আকর্ষণীয় নয়। প্রসাধনী কোম্পানির সৃজনশীল মানুষরা অনেক সময় এমন সব নাম দেন, যা শুনলেই ভালো লাগে।

যেমন—পিংক পিজন, সুইট নেকটার, ইনটু দ্য ম্যাডনেস কিংবা ইউনিকর্ন টিয়ার্স।

তবে শুধু কোম্পানির লোকেরাই কেন মজা করবেন? বন্ধুদের সঙ্গে বসে নিজের পছন্দের লিপস্টিকের জন্য নতুন নতুন মজার নামও তৈরি করতে পারেন। হতে পারে ‘সকালের কফি’, ‘বৃষ্টিভেজা গোলাপ’ কিংবা ‘মুড ভালো করার লাল’।

লিপস্টিক নিয়ে মজার কিছু তথ্য

লিপস্টিকের ইতিহাস যেমন রঙিন, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা মজার তথ্য।

  • বিশ্বের সবচেয়ে দামি লিপস্টিকগুলোর একটি তৈরি করেছিল ক্যুচার বিউটি। এতে আসল হীরা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং প্রতিটি টিউবের দাম ছিল প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার।
  • ১৯১২ সালে নারীর অধিকার আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাফ্রাজেটরা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে লিপস্টিক ব্যবহার করেছিলেন।
  • MAC Cosmetics এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত মানুষের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং ২০১৫ সালে ৩৮০ মিলিয়ন ডলার দান করেছে।
  • একজন নারী লিপস্টিক কিনতে তার জীবনে গড়ে ১,৫০০ ডলারের বেশি অর্থ খরচ করেন।

অর্থাৎ, লিপস্টিক শুধু সাজের অংশ নয়, এটি অনেক সময় আত্মবিশ্বাস, প্রতিবাদ এবং নিজের পরিচয় প্রকাশের মাধ্যমও হয়েছে।

লিপস্টিকের ইতিহাস: হাজার বছরের রঙিন গল্প

সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে ঠোঁটে রঙ ব্যবহার করে আসছে। প্রাচীন সময়ে লিপস্টিক তৈরি হতো গাছের শিকড়, ফল, বেরি, তেল ও মোম দিয়ে। কোথাও কোথাও মূল্যবান পাথর গুঁড়ো করেও ঠোঁটের রঙ তৈরি করা হতো।

সময়ের সঙ্গে লিপস্টিক তৈরির উপকরণ বদলেছে, কিন্তু এর জনপ্রিয়তা কমেনি। আজও এটি সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।

ছোট্ট লিপস্টিক, বড় বিতর্ক

আধুনিক সময়ে এত ছোট একটি প্রসাধনীকে ঘিরে লিপস্টিকের মতো এত আলোচনা খুব কম জিনিস নিয়েই হয়েছে। কখনও এটি সৌন্দর্যের প্রতীক হয়েছে, আবার কখনও সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হয়ে উঠেছে।

ঠোঁট আকর্ষণীয় করে তোলা থেকে শুরু করে আয়নায় বার্তা লেখা লিপস্টিক বারবার নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।

২০ শতকের শুরুতে প্রকাশ্যে লিপস্টিক ব্যবহার করে অভিনেত্রী সারা বার্নহার্ড ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিলেন। সে সময় নারীদের প্রকাশ্যে প্রসাধনী ব্যবহার অনেকের কাছে বিতর্কিত বিষয় ছিল।

অন্যদিকে, রানি ভিক্টোরিয়া মেকআপকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। তিনি মনে করতেন, অতিরিক্ত সাজসজ্জা শোভন নয়।

তবে উইনস্টন চার্চিল লিপস্টিককে দেখতেন অন্য চোখে। তিনি মনে করতেন, এটি মানুষের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিপস্টিক উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করার পক্ষে ছিলেন না।

আজকের লিপস্টিক দিবস

লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা হাজার বছর ধরে টিকে আছে। কারণ এটি শুধু ঠোঁটে রঙের ছোঁয়া নয়, এটি আত্মবিশ্বাসেরও একটি প্রকাশ।

জাতীয় লিপস্টিক দিবসের আধুনিক উদ্‌যাপন জনপ্রিয়তা পায় ২০১৬ সালে, যখন সৌন্দর্যবিষয়ক ব্লগার ও উদ্যোক্তা হুদা কাত্তান এই দিবসকে সমর্থন করেন। তবে কিছু সূত্র অনুযায়ী, লিপস্টিক উদ্‌যাপনের ধারণা আরও পুরোনো এবং ১৯৪০-এর দশক থেকেই এর প্রচলন ছিল বলে ধারণা করা হয়।

তাই আজকের দিনে প্রিয় লিপস্টিকটি হাতে নিন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হাসিটাকে আরও উজ্জ্বল করুন। কারণ কখনও কখনও ছোট্ট একটি রঙের ছোঁয়াই পুরো দিনের আত্মবিশ্বাস বদলে দিতে পারে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
এক টুকরো চকোলেট আর একগুচ্ছ আনন্দের দিন আজ
যে দিনটিতে দেরিতে উঠলে মিলতে পারে ‘পানির পুরস্কার’!
আজ ‘ওয়ান ভয়েস ডে’, কেন কীভাবে পালন করা হয় এই দিন?
সর্বশেষ খবর
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন অমিত শাহ, রাহুলের অভিযোগে লোকসভায় হট্টগোল
হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন, আটকে গেলো কলিমুল্লাহ’র মুক্তি
ডিএমপির অভিযানে রাজধানীতে একদিনে গ্রেফতার ৫০৩
অবশেষে আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: তিন খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
ফেসবুকে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক
নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলা কেন, যা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার আট প্রকল্প অনুমোদন