শিশুকে খাওয়ানো যেন অনেক অভিভাবকের কাছেই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দুধ খাওয়ানোর সময় শুরু হয় সবচেয়ে বেশি ঝামেলা। গল্প বলা, কার্টুন দেখানো কিংবা খেলনা দিয়ে মন ভোলানোর পরও অনেক শিশু দুধের গ্লাসের দিকে ফিরেও তাকাতে চায় না। অথচ বেড়ে ওঠার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যালশিয়াম শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠন, পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সাধারণভাবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারকে ক্যালশিয়ামের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হলেও, পুষ্টিবিদদের মতে রাগি (ফিঙ্গার মিলেট) ক্যালশিয়ামের একটি দারুণ প্রাকৃতিক উৎস। আমাদের দেশে ‘রাগি’ খুব একটা প্রচলিত বা পরিচিত কোনও শস্য নয়। এটি বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ভারতীয় অঞ্চলে আবাদ করা হয়। এটি একটি ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ একটি প্রাচীন শস্য। এটি গ্লুটেনমুক্ত এবং দুধের বিকল্প হিসেবে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা হয়। চিয়া সিডের মতোই এটিও হতে পারে দারুণ একটি পুষ্টিগুনসমৃদ্ধ খাদ্যশস্য।
পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ গ্রাম রাগিতে গরুর দুধের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়। তাই যেসব শিশুর ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা (ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স) রয়েছে বা যারা দুধ খেতে চায় না, তাদের খাদ্যতালিকায় রাগি যোগ করা হতে পারে একটি ভালো বিকল্প।
শুধু তাই নয়, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতেও নিয়মিত রাগি দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো যেতে পারে।
রাগি দিয়ে তৈরি তিনটি মজাদার স্ন্যাকস
রাগি বিস্কুট: বাড়িতেই খুব সহজে তৈরি করা যায় পুষ্টিকর রাগি বিস্কুট। একটি পাত্রে ঘি, গুঁড়, রাগির আটা, ওটসের গুঁড়া, এলাচগুঁড়া, সামান্য বেকিং সোডা এবং অল্প দুধ মিশিয়ে নরম মণ্ড তৈরি করুন। এরপর ছোট ছোট কুকির আকারে গড়ে বেকিং ট্রেতে সাজিয়ে ১৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ১০ মিনিট বেক করুন। তৈরি হয়ে যাবে মুচমুচে রাগি বিস্কুট।
রাগি চিপস: প্রথমে ধনিয়ার গুঁড়া, চাট মসলা, কম ঝালের মরিচের গুঁড়া ও বিট লবণ মিশিয়ে একটি মসলা তৈরি করুন। এরপর রাগির আটা, চালের গুঁড়া, গমের আটা, সামান্য লবণ ও ভাজা তিল একসঙ্গে মিশিয়ে পানি দিয়ে মেখে নিন। মণ্ডটি পাতলা করে বেলে পছন্দমতো আকারে কেটে কাঁটাচামচ দিয়ে ছোট ছোট ছিদ্র করুন। এরপর এয়ার ফ্রায়ারে অল্প তেল ব্রাশ করে প্রায় ১০ মিনিট বেক করুন। চাইলে ডুবো তেলেও ভেজে নেওয়া যায়। শেষে তৈরি করা মসলা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
রাগি কাটলেট: সেদ্ধ আলু, কুচি করা গাজর, বিট, কাঁচামরিচ ও ধনিয়া পাতার সঙ্গে রাগির আটা, সুজি এবং চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এরপর গোলমরিচের গুঁড়া, চাট মসলা ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে মেখে ছোট ছোট কাটলেটের আকার দিন। অল্প তেলে দুই পাশ সোনালি করে ভেজে বা সেঁকে নিলেই তৈরি হবে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর রাগি কাটলেট।
তবে মনে রাখবেন, রাগি ক্যালশিয়ামের ভালো উৎস হলেও শিশুর খাদ্যতালিকা যেন সুষম হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। বয়স ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী কী পরিমাণ রাগি বা অন্য খাবার খাওয়ানো উচিত, সে বিষয়ে প্রয়োজন হলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।









