রঙিন চোখে বাংলাদেশ দেখা (ভিডিও)

Send
ওয়ালিউল বিশ্বাস
প্রকাশিত : ১৮:০০, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৫, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

জাতীয় জাদুঘরের গ্যালারি, ঠিক ডান দিকে রাখা আছে ব্যতিক্রমী এক আয়না-টেবিল। যার উপরের ছাদে টানানো আছে তিনটি ছবি। তবে তা দেখতে ঘাড় বাঁকা করে আকাশের দিকে তাকানোর কোনও প্রয়োজন নেই। টেবিলের সামনে দাঁড়ালেই আয়নাতে দেখা যাবে প্রার্থনারত বিভিন্ন ধর্মের কিছু মানুষের অবয়ব।

আলোকচিত্রী প্রীত রেজার মতে, ‘এ টেবিলটা আয়না দিয়ে বানানো। ঠিক উপরে ছাদে আছে তিনটি ছবি। মূলত তিন ধর্মের মানুষের ছবি রাখা হয়েছে। আমরা যেমন খাবার টেবিলে বসে নিজেদের মধ্যে কথা বলি। ঠিক তেমনি, এখানে দাঁড়ালে টেবিলে সেই ছবিগুলো দেখা যাবে!’

এছাড়াও গ্যালারিতে বসানো হয়েছে বায়স্কোপ। সেখানেই ছোট আকারে ছবি দেখানো হচ্ছে। পাশে রাখা হয়েছে ভালোবাসা ও উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চিঠির দেওয়াল।

আরও আছে। শ্যামল বাংলা কখনও সোনাঝরা রঙিন, কখনও মুক্তাঝরা হাসি, আছে ভিন্ন ধর্ম-বর্ণের অসাম্প্রদায়িক বসবাসের দৃশ্য। এ সবকিছুই এক গ্যালারিতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আর এটি করেছে ইউনেস্কোর ঢাকা দফতর।

১৫ নভেম্বর থেকে  বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ‘কালারস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা এবং প্রদর্শনীর আয়োজন শুরু হয়েছে।

আজ (১৭ নভেম্বর) ছিল এর সমাপনী দিন। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন ইউনেস্কো ঢাকা দফতরের প্রধান বিয়াট্রিস কালডুন। আর এটি তত্ত্বাবধান করেছে প্রীত রেজা প্রডাকশন।

রঙে রঙিন এমন আয়োজনের ভাবনা প্রসঙ্গে প্রীত রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ মাত্রই অনেকের কাছে দারিদ্র আর দুর্ঘটনা ফুটে ওঠে। কিন্তু আমাদের এই দেশটা যে কতটা রঙিন শুধু আমরা জানি। সেই ভাবনা থেকেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। এখানে শহর আর গ্রামের দৃশ্য যেমন আছে তেমনি রঙিন প্রকৃতি, পাখি, বহু ধর্মের বসবাস, শিশু ও মানুষের বিভিন্ন আচার তুলে ধরা হয়েছে।’

প্রীত জানান, মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৭ হাজার ছবি জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে চূড়ান্তদের ছবি এখানে প্রদর্শনী করা হচ্ছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ডিজিটাল প্রদর্শনীর। যেখানে বড় স্ক্রিনে একের পর এক ছবি দেখানো হয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও কোরিয়া সরকারের সহায়তায় এবং প্রীত রেজা প্রডাকশনসের সঙ্গে অংশীদারত্বে ইউনেস্কো ঢাকা দফতর এই আয়োজন করেছে। নবীন এবং পেশাজীবী আলোকচিত্রীদের অংশগ্রহণে অনলাইনে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাওয়া আলোকচিত্র দিয়ে এই প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে। প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন আলোকচিত্রী শফিকুল আলম, মুনিরা মোরশেদ, প্রীত রেজা এবং ফিলিপাইনের আলোকচিত্রী ওয়াই নাভারোযা। এই গ্যালারি থেকেই চূড়ান্তজনকে পুরস্কৃত করা হবে।

 ছবি: সাজ্জাদ হোসেন। 

/এম/এমএম/এফএএন/

লাইভ

টপ