কেন ভালোবাসি তোমায়...

Send
আহমেদ শরীফ
প্রকাশিত : ১৭:১৬, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৫, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

প্রতি বছর সারা বিশ্বে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেনটাইন ডে উদযাপন করা হয় তা কমবেশি আমরা সবাই জানি। ভালোবাসার পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে তৃতীয় শতকে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের নির্দেশে এই দিনে ক্যাথলিক ধর্মযাজক সেইন্ট ভ্যালেনটাইনকে হত্যা করা হয়।

তুমি আমার ভ্যালেনটাইন

এই ভ্যালেনটাইনকে নিয়ে রয়েছে নানা গল্প। কেন আমরা প্রেমিক-প্রেমিকাকে ভ্যালেনটাইন বলি তার পেছনেও গল্প আছে। বলা হয়ে থাকে সেইন্ট ভ্যালেনটাইনকে যখন শাস্তি হিসেবে কারাগারে রাখা হয়, তখন তিনি তার শাস্তি নির্ধারণকারী এক বিচারকের মেয়েকে অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রার্থনা করেছিলেন। সেই নারী অন্ধত্ব থেকে মুক্তিও পায়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ভ্যালেনটাইন মরে যাওয়ার আগে ওই মেয়েকে একটা আবেগঘন চিঠি লিখে তাতে স্বাক্ষর করেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’। তাদের মাঝে সম্পর্ক ছিল কিনা,  তা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। তার সেই স্বাক্ষরই এখন প্রেমিক-প্রেমিকারা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন।

গোলাপে বসন্ত

আঠারো শতকে বৃটেনে ভিক্টোরিয়ান যুগে মানুষ তার আবেগের প্রকাশ ঘটাতো ফ্লোরিওগ্রাফি অর্থাৎ ফুলের ভাষার মধ্য দিয়ে। এর মানে হলো নির্দিষ্ট একটি ফুল দিয়ে বিশেষ কোনো বার্তা পৌঁছে দিতেন প্রেমিক-প্রেমিকারা, এই যেমন- লাল গোলাপ মানে রোমান্স। এখনো অনেকটা একইভাবে বিশ্বজুড়ে মানুষ ভালোবাসা প্রকাশ করতে লাল গোলাপ উপহার দেন। ভ্যালেনটাইন ডে এর কয়েকদিন আগে আমেরিকা কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের বিশাল সব ফুল বাগান থেকে অসংখ্য গোলাপ ফুল কেনে। সেসব  বিক্রির উদ্দেশ্যে রেফ্রিজারেটরে করে বিমানের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়।

লালে লালেশ্বরী

 প্রাচীন কাল থেকেই লালকে প্যাশন ও যৌনতার রং হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ রোচেস্টারের সাইকোলজিস্টরা গবেষণায় জানতে পেরেছেন অন্য রংয়ের কাপড়ের চেয়ে লাল রংয়ের কাপড়ে বা লাল ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে থাকা নারীদের বেশি আবেদনময়ী মনে করে পুরুষরা। একইভাবে লাল রংয়ের কাপড় পরা পুরুষদেরও আবেদনময়ী মনে করে নারীরা। লাল রং আত্মবিশ্বাস, স্বত:স্ফূর্তভাব ও দৃঢ়তারও প্রতীক।

ভালোবাসার কথা

ভ্যালেনটাইনস ডে উপলক্ষে ইংল্যান্ডে আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে হাতে লেখা ভালোবাসার নোট ও বিভিন্ন চিহ্ন জনপ্রিয় হয়ে উঠে প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে। মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর ভালোবাসার কথাগুলো ছাপা হওয়া কার্ডে জায়গা করে নেয়। কার্ডের মাধ্যমে ভালোবাসার এমন বহিঃপ্রকাশকে আমেরিকায় জনপ্রিয় করে তোলেন এসথের হাওল্যান্ড। বর্তমানে প্রতি বছর ভ্যালেনটাইনস ডে তে আমেরিকায় প্রেমিক- প্রেমিকারা একে অপরের মাঝে ১১৪ মিলিয়ন কার্ড বিতরণ করেন।

ভালোবাসার কিউপিড

ভালোবাসার দেবী ভেনাসের ছেলে, আমরা যাকে কিউপিড হিসেবে চিনি, সেই ভালোবাসার দেবতাকে আগে গ্রিকরা ইরোস বলে ডাকতো। গ্রিক পৌরাণিক শাস্ত্র মতে এই কিউপিডের কাছে দুটি তীর আছে। একটি হলো স্বর্ণের তৈরি, যা মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে ভালোবাসার জন্ম দেয়। আরেকটি তামার তৈরি তীর, যা জন্ম দেয় ঘৃণার। 

ভালোবাসার পাখি

ভালোবাসার পাখি ঘুঘু হলেও আফ্রিকায় কয়েক প্রজাতির তোতাপাখি আছে, যারা ‘লাভবার্ড’ নামেই পরিচিত। এরা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি এদের পুরুষ ও নারী পাখিরা একে অপরের প্রতি প্রচণ্ড অনুরক্ত। মানুষের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের এমন গভীর অনুরাগ দেখলে তাদের আমরা লাভবার্ডস বলি।

ভালোবাসা সবার

ভ্যালেনটাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসটি এখন আর শুধু প্রেমিক যুগলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দিনটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি কার্ড পান শিক্ষকরা। এমনকি মানুষ তাদের সন্তান ও মায়ের জন্যেও কার্ড কেনেন অনেক। আর ভ্যালেনটাইনস ডে উপলক্ষে প্রায় নয় মিলিয়ন আমেরিকান কেনেন নতুন পোষা প্রাণি।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

 

 

/এফএএন/

লাইভ

টপ