গ্রীষ্মকাল এলেই বাজারে দেখা মেলে কাঁঠালের। সুস্বাদু এই ফল খাওয়ার পর অধিকাংশ মানুষই এর বীজ ফেলে দেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁঠালের বীজও পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালের বীজে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ শর্করা, খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের নানা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, কাঁঠালের বীজে থাকা খাদ্যআঁশ হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁঠালের বীজে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন শরীরের টিস্যু গঠন ও মেরামতে ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় কাঁঠালের বীজের নির্যাসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কাঁঠালের বীজ সেদ্ধ, ভাজা কিংবা বিভিন্ন সবজি ও ভর্তার সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। তবে বীজ অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে কোনো একক খাদ্যকে রোগ নিরাময়ের উপায় হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কাঁঠালের বীজ খাওয়া যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইউএসডিএ ফুডডাটা সেন্ট্রাল, পাবমেড, এফএও এবং সংশ্লিষ্ট পুষ্টিবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন।









