বিয়েবাড়ির দাওয়াতে পছন্দের সিল্কের শাড়ি পরেছেন। সামনে সাজানো বাহারি খাবার, জমিয়ে খাওয়ার সময় হঠাৎ শাড়িতে পড়ে গেলো এক ফোঁটা তেল। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই শাড়ি ধুতে ছুটবেন না। বরং পানি দেওয়ার আগে কয়েকটি সহজ উপায়ে দাগের তেল শুষে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে দাগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে।
প্রথম কাজ, ঘষবেন না: তেলের দাগ সদ্য লাগলে পরিষ্কার, শুকনো কাপড় বা টিস্যু দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে অতিরিক্ত তেল শুষে নিন। ঘষাঘষি করলে তেল আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে এবং সিল্কের কোমল তন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ছড়িয়ে দিন কর্নস্টার্চ বা ট্যালকম পাউডার: দাগের ওপর ভালো করে কর্নস্টার্চ বা ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন। কয়েক ঘণ্টা রেখে দিলে গুঁড়োটি তেল শুষে নিতে সাহায্য করবে। এরপর নরম ব্রাশ দিয়ে খুব সাবধানে গুঁড়ো সরিয়ে ফেলুন। দাগ থেকে গেলে একই পদ্ধতি আবার করা যেতে পারে।
বেকিং সোডা ব্যবহারে সতর্কতা: তেলের দাগ পুরোনো হলে বেকিং সোডা ব্যবহারের পরামর্শ কিছু গাইডে পাওয়া যায়। তবে দামি বা রঙিন সিল্কে যেকোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে শাড়ির অদৃশ্য কোনও অংশে পরীক্ষা করে নেওয়াই নিরাপদ। সিল্কে রং ওঠা বা পানির দাগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকায় অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই ভালো।
এরপরও দাগ থাকলে: শাড়ির যত্নের লেবেলে বাড়িতে ধোয়ার অনুমতি থাকলে খুব অল্প পরিমাণ মৃদু, সিল্ক-উপযোগী ডিটারজেন্ট ঠান্ডা বা হালকা উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে দাগের জায়গায় আলতোভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পুরো শাড়ি ভিজিয়ে ফেলা, ঘষা বা চিপে পানি বের করা ঠিক নয়। পরিষ্কার করার পর তাপ বা ড্রায়ারের বদলে ছায়ায় বাতাসে শুকানো নিরাপদ।
দামি সিল্ক হলে সাবধান: সব সিল্ক একভাবে পরিষ্কার করা যায় না। শাড়ির কেয়ার লেবেলে যদি ‘ড্রাই ক্লিন অনলি’ লেখা থাকে, কিংবা শাড়িতে জরি, ভারী কাজ বা বিশেষ ধরনের রং থাকে, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে দাগ তোলার চেষ্টা না করে পেশাদার ড্রাই ক্লিনারের কাছে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
তাই সিল্কের শাড়িতে খাবারের তেল পড়লে পানি দেওয়ার আগে দাগটি শুষে নেওয়াই প্রথম কাজ। তাড়াহুড়ো করে ঘষাঘষি বা গরম পানি ব্যবহার না করে যতটা সম্ভব কোমলভাবে দাগের মোকাবিলা করুন।









