X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৯ আশ্বিন ১৪২৯

এস এম সুলতানের জীবনবোধ

সুনন্দা বর্মন
১০ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৪আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ১২:২৬

কৃষিনির্ভর বঙ্গজনপদে মানুষের জীবনগল্পের অঙ্কুরোদ্গম হয় এর মাটির অভ্যন্তরে; কাদা-মাটির সাথে তাই সেসব গল্প ডালপালা মেলে ছড়িয়ে পড়ে শিরা-উপশিরায়। আবহমান বাংলার ইতিহাসের এক পৃষ্ঠায় যেমন এর পরতে পরতে থাকা রূপবৈচিত্র্যের কীর্তনগাথা রচিত হয়েছে, তেমনি শোষণ বঞ্চনায় টিকে থাকা একদল মানুষের জীবন সংগ্রামের কঠিন বাস্তবতাও রচিত হয়েছ অপর পৃষ্ঠায়। রোদবৃষ্টির সাথে নিত্য যাদের লড়াই, লাঙলের ফলার আঘাতে যারা কঠিন মাটির বুকে জাগায় সবুজ-শ্যামলীমার নৃত্য তারাই তো সভ্যতার প্রকৃত কারিগর। তারা কোনো হাড়জিরজিরে রোগশোকে ভোগা শরীর নিয়ে জীর্ণ জীবনযাপন করবে! এই প্রশ্নটিকে জীবনে ধারণ করে যে শিল্পীর জীবনদর্শন একটি ভিন্ন আঙ্গিক রচনা করেছিল তৎকালীন শিল্পধারায় তিনি শিল্পী এস এম সুলতান। পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান। তিনি ছিলেন প্রকৃত মানবিকতার শিল্পী যার চিত্রপটে কৃষকসমাজের জীবনধারা একটি নব্যদর্শনের জন্ম দিয়েছিল।

শিল্পী এস এম সুলতান জন্মগ্রহণ করেছিলেন নড়াইল জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে দরিদ্র কৃষক পরিবারে। চিত্রা নদীর পাশঘেঁষা এই গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্যই শৈশবের লাল মিয়াকে পরবর্তী জীবনে করেছে শিল্পী এস এম সুলতান। একেবারে শৈশবে বর্ণমালার হাতেখড়ি হবার আগেই যার চোখে চারপাশের পরিবেশ যেন এক একটি ছবি হয়ে ধরা দিয়েছিল। তাই তো মাত্র চার বছর বয়সে মানসপটে ধরা সেসব ছবি রেখা হয়ে ফুটে উঠতে থাকে লাল মিয়ার হাতে। সেই রেখা কখনো আঁকছে মানুষের অবয়ব, কখনো নিসর্গ, কখনও-বা স্রেফ জীবজন্তুর ড্রয়িং। এতটুকু শিশুর চোখ তখন তৈরি হচ্ছে যেন আবহমান বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের হাজার বছরের ইতিহাসকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেখবার জন্য। ঋণের দায়ে জর্জরিত কৃষক হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর যে ফসল পায় তার সিংহভাগ যায় মহাজনের গোলায়। বছর না পেরুতেই আবাদের জমিটা পর্যন্ত হাতছাড়া হয়ে যায় কৃষকের। বর্গা খেটেও তখন তাদের দুবেলার অন্নের চিন্তায় কপালের রেখা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। পেশি শুকিয়ে কঙ্কালসার শরীরে যেন পেটে পিঠে এক সম্পর্ক তৈরি হয়। বুকের পাঁজর ক’খানা গুনবার জোগাড় হয় কার্তিক মাসের আকালে। অপুষ্টি আর রোগশোকের সে শরীর নিয়ে তারা মাটির সাথে লড়াই করে চলে, বাঁচার লড়াই, টিকে থাকার লড়াই। এই রূঢ় বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে শিল্পী এস এম সুলতানের চোখে ভাসে ভিন্ন এক ছবি। ক্ষয়ে যাওয়া এই সমাজসভ্যতাকে তিনি পুনরায় শুরু থেকে শুরু করবার স্বপ্ন দেখলেন এবং রংতুলির ভাষায় তা ফুটিয়ে তুলতে শুরু করলেন ক্যানভাসে। তিনি আঁকলেন পৃথিবীর আদিপুরুষ আদমের ‘প্রথম বৃক্ষরোপণ’। এই চিত্রটিতে দেখা যায় সুগঠিত পুষ্ট পেশিবহুল দেহের আদম তার দৃপ্ত হাতে একটি বৃক্ষরোপণ করতে উদ্যত। যেন এই চারারোপনের মধ্যদিয়ে সভ্যতার এক পুনঃ ও নব্য সূচনা হচ্ছে যেখানে গ্রামের খেটেখাওয়া সাধারণ কৃষকরাই হবে সকল ক্ষমতার উৎস। তারা যে ফসল ফলাবে তার পূর্ণ অধিকার থাকবে তাদেরই হাতে। তাদের শরীর হবে পুষ্ট পেশিবহুল। কারণ, তাদের কায়িক শ্রমেই ভরেওঠে ফসলের মাঠ।

গ্রামীণ জীবনে যেমন নিসর্গের মাঝে বুকভরে শ্বাস নেবার আনন্দ আছে তেমনি এ জীবন কঠোর পরিশ্রমের। গ্রামীণ প্রতিটি কাজেই লাগে পেশিশক্তির ব্যবহার—জমি কর্ষণ, ফসল মাড়াই, ঢেঁকিতে ধান ভানা, নৌকা বাওয়া, মাছ ধরা কোনোটিই কায়িক শ্রম ব্যতীত সম্ভব নয়। তারপর আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর চর দখলের মতো জীবন সংগ্রাম। তবুও দিনশেষে কৃষকের নিজহাতে বোনা ধান কৃষাণির পায়ের বলে ঢেঁকিতে ভানা হয়ে যে চাল হলো তার ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর বিলঝিল পুকুরের মাছ, গাভির দুধ—সবমিলে পুষ্ট হবে কৃষকের শরীর।

শিল্পী এস এম সুলতানের চিত্রে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নারী-পুরুষের সম্মিলিত কর্মপ্রয়াস যা ইঙ্গিত দেয় এক সাম্যবাদী সমাজের। শিল্পী যেমন যুদ্ধ করেছেন সকল সামাজিক শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে তেমনি দেখিয়েছেন নর-নারীর সম্মিলিত শক্তিই একটি সমাজের এগিয়ে যাবার মূল চালিকাশক্তি। সুলতানের চিত্রকর্মে দেখা যায় পুরুষের মতো নারীদেহ পুষ্ট ও পেশিবহুল। প্রতিটি চিত্রকর্মে পুরুষের পাশে নারীর সরব উপস্থিতি ঘরে বা ঘরের বাইরে, কর্মমুখর দিনে কি অবসরে। নারীরা তার চিত্রপটে যেমন ধান ভানছে, মাছ কুটছে, গাভির দুগ্ধদোহন করছে, তেমনি পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ফসল তুলছে, মাছ ধরছে, ধান মাড়াই করেছে, অবসরে জাল বুনছে—এ যেন এক সুখী সমৃদ্ধ ও সাম্যময় সমাজের প্রতিচ্ছবি। শিল্পী নারীকে কেবল পেলব কোমল আর রমণীয় করে ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখেননি—তিনি সমাজকে দেখিয়েছেন নারী যেন আর একটি শক্তির আধার।

সুলতানের প্রথম জীবনের কাজে পশ্চিমা ধারার ইম্প্রেশনিজম ও এক্সপ্রেশনিজমের প্রভাব স্পষ্ট। তবে পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন নিরীক্ষার ভিতর দিয়ে একটি নিজস্ব ঘরানার জন্ম দেন। যেখানে তিনি সামান্যই রঙের ব্যবহার করেছেন, রেখার দৌড়াত্বে ভরেছেন এক একটি বিশাল চিত্রপট। বিদেশি রং ব্যায়বহুল বলে তিনি অনুসন্ধান করেছেন দেশীয় উৎসের যা দিয়ে তিনি পরবর্তীতে আবিষ্কার করেছিলেন—কি কি দেশীয় উপাদান দিয়ে রং বানানো যায় ও তা স্থায়ীকরণ করা যায়। ফিগার চিত্রণে শিল্পী ব্যবহার করেছেন কাদামাটির রং যেন মাটি মানুষের মাঝে কোনো দূরত্ব নেই। তার ক্যানভাসে তাই মাটি মানুষ নিসর্গ মিলেমিশে একাকার হয়েছে যেন তারা একে অপরের কত আপন! তার প্রতিটি চিত্রপট শিল্পীর সৌন্দর্য অবলোকনের সীমা ছাড়িয়ে দর্শককে দেয় একটি গভীর জীবনবোধ। যে বোধ খুব সহজেই ধরা দেয় সাধারণ দর্শকের মানসে, যা বুঝবার জন্য খুব পড়ালেখার দরকার হয় না। তিনি তার শিল্পকে কেবল উচ্চবিত্তের ড্রয়িংরুমের শোভাবর্ধক কিংবা উচ্চশিক্ষিতের নন্দনতত্ত্ব খুঁজবার উপকরণ হিসেবে নেননি, শিল্পকে আনতে চেয়েছেন মাটির কাছাকাছি। ছবির ভাষাকে করতে চেয়েছেন সাধারণ মানুষের বোধগম্য—তারা যেন ছবি দেখে নিজের দীনতা অনুভব না করে। গ্রামের অল্পশিক্ষিত মানুষ যেন তার ছবিতে খুঁজে পায় শিকড়ের সন্ধান। স্বল্প রঙের আচর যেন শরীরের বর্ণ, সমাজের বর্ণ, লিঙ্গের বর্ণবৈষম্য তথা ছবির বিষয়কে ভেদ করে এক অপূর্ব বৈচিত্র্য হয়ে ধরা দিয়েছে। একইসাথে এত এত বিষয়কে তিনি একটি প্রেক্ষাপটে এঁকেছেন কি অসম্ভব দক্ষতায়, সৌন্দর্যবোধ আর জীবনবোধের মিশেলে।
 
সুলতান তাই কেবল একজন চিত্রশিল্পীই নন তার গভীর জীবনবোধ বলে দেয় তিনি একজন দার্শনিকও বটে। শিল্প ও দর্শন যেন একীভূত হয়ে শিল্পী সুলতানকে করেছিল মহিমান্বিত—সকল বৈষয়িক লোভ লালসার ঊর্ধ্বে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন মানবিক মানুষ হিসেবে। তিনি তার দর্শনকে প্রকাশ করেছেন শিল্পের ভাষায়। সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা বয়ে বেড়িয়েছেন আজীবন। তার জীবন দর্শনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বোধ হলো—তিনি অনুভব করেছিলেন শিশুরাই আসলে এই বিরাট সমাজের প্রকৃত পথপ্রদর্শক ও এই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই তিনি শিশুদের গড়ে তুলবার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন একটি সাম্যবাদী সৌন্দর্য সচেতন মানবজাতি গঠনের মূলে রয়েছে শিশুরা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিশুটি একটি গাছের ছবি আঁকছে সে কখনো মানুষ মারতে পারবে না। কিন্তু এই দরিদ্র দেশে চাইলেই তো আর শিশুদের দিয়ে ছবি আঁকানো যায় না। কারণ ক্ষুধার জ্বালা পেটে নিয়ে হাতে কি করে রং তুলি উঠবে। তাই তিনি গ্রামের দরিদ্র শিশুদের একবেলা আহারের জোগাড় করে তারপর তাদের দিয়ে ছবি আঁকাতেন। তিনি আরো ভাবতেন, আগে কোনো বিষয়বস্তুকে ভালো করে দেখতে হবে, হৃদয়ে ধারণ করলে তবেই তা হাতে আসবে, রং তুলিতে ফুটে উঠবে। তাই তিনি শিশুদের নৌকাভ্রমণে নিয়ে যেতেন যেন শিশুরা নদীর দুই পাড়ের দৃশ্য অবলোকন করে নদীমাতৃক এই দেশের অপার সৌন্দর্য মর্মে গেথে নিতে পারে। সেই ভ্রমণের মধ্যেই তিনি শেখাতেন কি করে সেসব নৈসর্গিক দৃশ্য দ্বিমাত্রিক চিত্রপটে ফুটিয়ে তুলতে হয়।

জন্মস্বাধীন শিল্পী এস এম সুলতানকে নিত্যনৈমিত্তিক সংসারের ক্ষুদ্র বাঁধন বাঁধতে পারেনি। তার কোনো পিছুটান ছিল না। তিনি নিজের মনে বাঁশি বাজাতেন, ঘুরে ফিরতেন মনের আনন্দে দেশের আনাচে-কানাচে। অর্থের অভাব ছিল কিন্তু তা তার বেঁচে থাকবার আনন্দে বা কাজ করবার গতিকে এতটুকু প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি শিল্পকর্মকে ভালোবাসতেন সন্তানের মতো। তাই শিল্পকে তিনি জীবিকার উপায় হিসেবে নিতে চাননি কখনো। তার সমস্ত সত্তায় তিনি ধারণ করেছেন শিল্পের প্রতি ভালোবাসা, শিল্পকে সাধারণের কাছাকাছি নিয়ে আসার আকুতি। তিনি আদতে ছিলেন মানবপ্রেমী। তার শিল্পের ভাষা কিংবা জীবনদর্শন সবই তিনি সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে নিয়োগ করায় ব্রতী ছিলেন আমরণ। এই আত্মোৎসর্গী মানুষটির প্রেম শিল্প, সাধারণ মানুষ, নিসর্গ ছাপিয়ে জয় করেছিল ভাষাহীন জীবজন্তুর হৃদয়ও। তিনি যেন তাদের ভাষা বুঝতেন, জীবজন্তুরাও তার ডাকে সাড়া দিত। কি গভীর ভালোবাসায় তিনি সকলকে আপন করে নিতে পারতেন।

বাংলাদেশি সমসাময়িক শিল্পীদের ভেতর শিল্পী এস এম সুলতান আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। পাবলো পিকাসোর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের সাথে তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন আমেরিকায় আন্তর্জাতিক শিল্পী সম্মেলনে। নিভৃতচারি এই শিল্পীকে যশখ্যাতির মোহ স্পর্শ করতে পারেনি। জীবনের অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে সাধারণ মানুষের সাথে। দেখেছেন বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনধারা, দারিদ্র্য ও প্রার্চুয উভয়ই। কিন্তু দিনশেষে তিনি ফিরেছেন মাটি ও মায়ের কোলে। এই দেশের মাটি ও মানুষের মাঝেই খুঁজে পেয়েছেন শিল্পের উপকরণ। ভেবেছেন খেটেখাওয়া মানুষের কথা, তাদের প্রকৃত উন্নয়নের কথা। তিনি ভালোবেসেছেন এই মাটিতে গড়ে ওঠা হাজার বছরের সংস্কৃতি, চেয়েছেন এদেশের খেটেখাওয়া মানুষের মাঝে জারি সারি ভাটিয়ালি বেঁচে থাকুক তাদেরই জীবনের নিজস্ব উপকরণ হয়ে। শিল্প হয়ে উঠুক সাধারণের।

/জেডএস/
সম্পর্কিত
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী
মহরতে স্মৃতিকাতর প্রযোজক অপু বিশ্বাস (ভিডিও)
মহরতে স্মৃতিকাতর প্রযোজক অপু বিশ্বাস (ভিডিও)
আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের শুরু
আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের শুরু
প্রসঙ্গ রাজনীতি: কঙ্গনাকে ‘খোঁচা’ দিলেন হেমা মালিনী!
প্রসঙ্গ রাজনীতি: কঙ্গনাকে ‘খোঁচা’ দিলেন হেমা মালিনী!
এ বিভাগের সর্বশেষ
‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ ও আহমদ ছফা : এক ক্ষ্যাপা বাউলের প্রাণ ।। পর্ব—সাত
পথে নেমে পথ খোঁজাআহমদ ছফা : এক ক্ষ্যাপা বাউলের প্রাণ
সাড়ে তিন আনা
সাদত হাসান মান্টোর ‘শিকারি আওরত’ থেকেসাড়ে তিন আনা
আকাশটা জুম করে দেখি
আকাশটা জুম করে দেখি
প্রসঙ্গ একজন বিনয় মজুমদার
জোনাকি পোকাই প্রকৃত জ্যোতির্ময়প্রসঙ্গ একজন বিনয় মজুমদার
প্রথম মানস-সন্তানের জন্মবৃত্তান্ত ।। পর্ব—৬
পথে নেমে পথ খোঁজাপ্রথম মানস-সন্তানের জন্মবৃত্তান্ত ।। পর্ব—৬